The NewsNest Desk: ‘ভোটচুরি’র অভিযোগকে সামনে রেখে ফের সরব হল বিরোধী জোট। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ সাংসদ। নির্বাচন সদনের কাছাকাছি পৌঁছনোর আগেই নীতি আয়োগের দফতরের সামনে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েক জন সাংসদকে আটকও করা হয়। পরে নির্বাচন সদনের কাছে আকাশবাণী অফিস চত্বরে অবস্থান নেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
সেখান থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একই বন্ধনীতে রেখে তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন তিনি। রাহুল বলেন, বিরোধী দলের প্রায় ৩০০ জন সাংসদ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের নির্বাচন সদনের কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, অথচ তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন সদন কাছেই থাকা সত্ত্বেও কমিশনের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন রাহুল।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে মিছিল শুরু হয়। রাহুলের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদেরাও মিছিলে অংশ নেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং এনসিপি (শরদ)-এর সুপ্রিয়া সুলের মতো নেতারাও ছিলেন।নীতি আয়োগের অফিসের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকে দেয়। সেখানে বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী সাংসদেরা। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ কয়েক জনকে পুলিশ আটক করলেও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর পর রাহুল আকাশবাণী অফিস চত্বর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। সেখানেও পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। পরে আকাশবাণী অফিস চত্বরেই বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, বিজেপির বক্তব্য বা সমালোচনা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। বরং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করার বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, বিরোধীরা শুধু বিজেপির মোকাবিলা করছেন না, দলটিকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার লড়াই করছেন। রাহুল আরও অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং মোহন ভাগবত ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সাহায্য করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে না পারা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০০ জন সাংসদ জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের নির্বাচন সদনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাহুলের প্রশ্ন, নির্বাচিত সাংসদদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন দেখা না করলে গণতন্ত্রের অর্থ কী? মিছিল থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পরে দেশের মানুষ যে সর্বজনীন ভোটাধিকার পেয়েছেন, তা খর্ব করার চেষ্টা চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরকারের ‘হাতের পুতুল’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এ ভাবে চলতে থাকলে দেশে একনায়কতন্ত্রের পথ খুলে যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়েও এ দিন অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে একতরফা ভাবে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাইবুনালে বহু আবেদন এখনও অমীমাংসিত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে সরব হন। তাঁর দাবি, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি তাঁর। এ দিনের কর্মসূচিতে বিরোধী জোটের একাধিক দলের সাংসদ অংশ নেওয়ায় দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা এবং ‘ভোটচুরি’র দাবি নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরদার করার ইঙ্গিতও মিলেছে এ দিনের কর্মসূচি থেকে।