Nandigram and Rejinagar bypolls witness allegations of polling irregularities as Humayun Kabir is arrested and opposition parties demand re-polling.

Nandigram: ‘রেকর্ড ভোট হবে নন্দীগ্রামে’, ভোট দিয়ে দাবি শুভেন্দুর, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন

The NewsNest Desk: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। শুরুতে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চললেও দুই কেন্দ্র থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি, এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। রেজিনগরে ভোট শুরুর পর পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর বিপুল ভোটের আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, তাঁর দলের পোলিং এজেন্টদের একাধিক বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোনাচূড়ায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসাও হয়। বিজেপির দাবি, কংগ্রেসের বুথে বসার মতো এজেন্টই নেই। ফলে কাউকে বসতে বাধা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। সোনাচূড়ায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয় কংগ্রেস প্রার্থীর। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে সেখান থেকে চলে যান মিলন। এর আগে সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নন্দীগ্রামের ২৮০ নম্বর বুথে ভোট দেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এ দিন সকালে রেয়াপাড়ার শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করেন। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে নির্বিঘ্নেই ভোট চলছে।

দুপুরে নন্দীগ্রামে নিজের ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দনায়েকবাড়ের বুথে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তাঁর আশা, ভোটের হার শেষ পর্যন্ত ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। অতীতের ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, ২০১৬ সালে নন্দীগ্রামে ৮২ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তিনি। এ বার সেই ব্যবধানের রেকর্ডও ছাপিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্য দিকে, রেজিনগরে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজের ছেড়ে যাওয়া আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাব নবি আজাদ। ভোটের শুরুতেই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকায় ভোট লুট হচ্ছে। দলের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জেলা পুলিশের দাবি, হুমায়ুন কবীর ওই নির্বাচনের প্রার্থী বা পোলিং এজেন্ট—কোনওটাই নন। তাই ভোটের দিন ওই ভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করার ক্ষেত্রে তাঁর উপর বিধিনিষেধ ছিল। আইন ভঙ্গের অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হুমায়ুনের গ্রেফতারি নিয়ে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে হুমায়ুন একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং এলাকায় অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হুমায়ুনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং প্রত্যেককেই আইন মেনে চলতে হবে।

রেজিনগরে অবশ্য শুধু হুমায়ুনের গ্রেফতারিই নয়, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিভিন্ন বুথ থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। দলের প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি রেজিনগর থানায় গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করেন এবং উপনির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন।

সিপিএমের তরফেও নির্দিষ্ট কয়েকটি বুথে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটারদের আঙুলে কালি লাগিয়ে ভোট না নিয়েই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে বিরোধীরা। অভিযোগগুলি পুলিশকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। রেজিনগরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদে পথে নামে কংগ্রেসও। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভমিছিল করেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ভোটগ্রহণের প্রথমার্ধেই বিরোধীদের তরফে একাধিক অভিযোগ ওঠায় রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার বা আটক করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে ভোটের শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের পরিস্থিতি কী থাকে, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।