The NewsNest Desk : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্ট অংশের মানুষের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাইলট বলেন, নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
পাইলটের কথায়, “জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে গোটা প্রক্রিয়া নিজের মতো করে শুরু করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, এর ফলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
দিল্লি থেকে ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, স্থানীয় স্তরে Electoral Registration Officer (ERO)-দের যে ক্ষমতা থাকার কথা, সেটিও ক্রমশ কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। এর ফলে দিল্লি থেকেই ভোটার তালিকায় কারও নাম যোগ করা বা বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাইলট দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হরিয়ানা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্দিষ্ট ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে।
তবে এই সংখ্যার দাবির বিষয়ে তিনি কোনও বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান বা নির্দিষ্ট নথি প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি। ফলে এটি কংগ্রেস নেতার রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন পাইলট। তিনি বলেন, নোটবন্দির পর এবার দেশে ‘ভোটবন্দি’ চলছে।
তাঁর বক্তব্য, ভোট দেওয়া নাগরিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকারই যদি কোনওভাবে কেড়ে নেওয়া হয়, তার চেয়ে গুরুতর বিষয় আর কী হতে পারে?
নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা কমছে, দাবি কংগ্রেস নেতার
শচীন পাইলটের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের যে আস্থা ছিল, তা ক্রমশ কমছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের এই আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। SIR বা Special Intensive Revision-কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলির একাংশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেসের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখিয়ে আসছে।
রাজস্থান ও পঞ্জাব নিয়েও সরব পাইলট
এ দিন শুধু ভোটার তালিকা নয়, রাজস্থানের খরা পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান পাইলট। তাঁর অভিযোগ, একাধিক এলাকায় বর্ষা স্বাভাবিক না হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি।
পাইলটের দাবি, বর্ষার ঘাটতি স্পষ্ট হওয়ার পর এক-দুই মাস আগেই পরিকল্পনা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া যেত। কিন্তু সরকারের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক পুরসভা নির্বাচনের সময় পুলিশ ও প্রশাসনকে অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের হরিয়ানা সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছিল।
পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি সরকারকেও আক্রমণ করেন পাইলট। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং মাদকাসক্তি বেড়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পঞ্জাবে সরকার গঠন করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে রাজস্থানের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা বিশ্ববেন্দ্র সিংকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক প্রসঙ্গে পাইলট বলেন, বিষয়টি দলের ভিতরেই আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনমতো তিনি নিজের অবস্থান জানাবেন। দল ইতিমধ্যেই বিশ্ববেন্দ্র সিংকে কথিত শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শোকজ নোটিস দিয়েছে।