The NewsNest Desk: সম্পর্কের শুরুতে ছোট ছোট বিষয়ও আলাদা আনন্দ দেয়। কিন্তু সময় যত এগোয়, কাজের ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর একসঙ্গে কাটানো সময়ের অভাবে সেই উষ্ণতা অনেক সময় কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সম্পর্ককে কীভাবে একই রকম সুন্দর রাখা যায়, সেই প্রশ্নের সহজ উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানা। তাঁর মতে, এর জন্য বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নই সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে রশ্মিকা এবং বিজয় তাঁদের সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলেন। সেখানেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের নানা অজানা দিক উঠে আসে। বিজয় জানান, প্রথমে তাঁরা সহকর্মী ছিলেন। পরে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সম্পর্কে পরিণত হয়। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ্যে না আনার সিদ্ধান্তও তাঁরা সচেতনভাবেই নিয়েছিলেন। বিজয়ের কথায়, তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয়। তাই সেটি নিয়ে সকলের সামনে আলোচনা করার প্রয়োজন তাঁরা অনুভব করেননি। রশ্মিকাও জানান, তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একে অপরকে নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত পরিসর দেওয়া।
তবে শুধু সম্পর্ককে ব্যক্তিগত রাখলেই যে তা ভালো থাকে, এমনটা মনে করেন না রশ্মিকা। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে হলে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও সঙ্গীর খোঁজ নেওয়া, তাঁর দিন কেমন কাটল তা জানতে চাওয়া কিংবা নিজের অনুভূতির কথা বলা—এই ছোট ছোট অভ্যাসই সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। রশ্মিকার মতে, সঙ্গীকে প্রতিদিন অন্তত একবার জিজ্ঞাসা করা উচিত তিনি কেমন আছেন। বিশেষ করে দিনের শেষে কিছুটা সময় শুধু একে অপরের জন্য রাখা দরকার। সারাদিনের কাজের চাপ বা ব্যস্ততার পর কয়েক মিনিট কথা বলাও দু’জনের মধ্যে দূরত্ব কমাতে পারে।
ভালোবাসার প্রকাশ নিয়েও যথেষ্ট খোলামেলা রশ্মিকা। তাঁর দাবি, তিনি দিনে একাধিকবার বিজয়কে ‘আই লাভ ইউ’ বলেন। তাঁর কাছে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে কোনও সংকোচ থাকা উচিত নয়। বরং অনুভূতি প্রকাশ করলে সম্পর্কের নিরাপত্তা এবং ঘনিষ্ঠতা দুটোই বাড়ে।
রশ্মিকার আরও একটি ছোট্ট অভ্যাস তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রাতে নিজে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিজয়কে বিছানায় পাঠানোর বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দেন। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, তাঁর মতে এমন ছোট ছোট যত্নই দীর্ঘ সম্পর্ককে আলাদা উষ্ণতা দেয়। বিজয়ও জানিয়েছেন, বিয়ের পর তিনি বুঝতে পেরেছেন রশ্মিকার উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আগে একা খাওয়াদাওয়া করলেও এখন রশ্মিকা পাশে থাকলে সেই সময় আরও ভালো লাগে। নিজের মনের কথা সহজে বলতে পারার জন্যও রশ্মিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
অর্থাৎ, রশ্মিকার সম্পর্কের সূত্র খুব জটিল নয়—ব্যস্ততার মধ্যেও সঙ্গীর খোঁজ নেওয়া, ভালোবাসা প্রকাশ করা এবং দিনের শেষে দু’জনের জন্য কিছুটা সময় রাখা। বড় কোনও উপহার নয়, বরং এই ছোট ছোট যত্নই হয়তো দীর্ঘ দাম্পত্যে ভালোবাসার উষ্ণতা ধরে রাখার অন্যতম চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন : Toxic Personality: ‘ক্ষতিকর’ মানুষ চিনবেন কীভাবে? সম্পর্কের মধ্যে এই লক্ষণগুলি নজরে রাখুন