Lionel Messi reportedly wanted to skip his Argentina farewell match amid claims that his name was being used to generate huge revenues.

Lionel Messi: বিদায়ী ম্যাচ খেলতেই চাননি মেসি! তাঁর নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আয়ের চেষ্টা ক্লাবের

The NewsNest Desk: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। বুধবার ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টেয় আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ বার মাঠে নামতে চলেছেন লিয়োনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিয়ো মনুমেন্তালে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে মেসি-ভক্তদের কাছে ম্যাচটি আবেগের হলেও, এই বিদায়ী ম্যাচ ঘিরেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর দাবি। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুরুতে নাকি এই ম্যাচ খেলতেই চাননি মেসি।

ইতালির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘গাজ়েত্তা দেল্লো স্পোর্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেসির আশঙ্কা ছিল তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। সেই কারণেই নাকি বিদায়ী ম্যাচের পরিকল্পনায় প্রথমে সায় দেননি বিশ্বজয়ী তারকা। শুধু মেসি নন, আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনিও শুরুতে এই পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চলতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান মেসি। তাঁর বাবা জর্জের মৃত্যুও এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা জানায়, বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই হবে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ।

রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা এমন একটি দলের বিরুদ্ধে খেলতে চেয়েছিল, যারা এই ম্যাচের জন্য কোনও পারিশ্রমিক দাবি করবে না। প্রাথমিকভাবে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিনের নাম ভাবা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেনিন বিনা পারিশ্রমিকে ম্যাচ খেলতে রাজি হয়। পরিবর্তে ম্যাচের পর মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পাবে তারা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিদায়ী ম্যাচে খেলতে রাজি হয়েছেন মেসি। ইতিমধ্যেই বুয়েনস আইরেসে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা মেসি ও স্কালোনির আলিঙ্গনের ছবি প্রকাশ করেছে। সতীর্থদের সঙ্গে শেষ বার অনুশীলনের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে আবেগঘন সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় গোটা ফুটবল বিশ্ব।

এই ম্যাচে মেসির সঙ্গে দেখা যাবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ অ্যাঙ্খেল দি মারিয়াকেও। সেই দলের আরও কয়েক জন সদস্যও মাঠে থাকবেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার কথা। একই সঙ্গে ফ্রাঙ্কো মাসটান্তুয়োনো, লিয়োনেল ফ্লোরেসের মতো তরুণ ফুটবলারদেরও দলে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, মেসির বিদায়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রজন্মের দিকে তাকানোর ম্যাচও হতে চলেছে এটি। মেসিকে ছাড়াও রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওটামেন্ডি এবং জিয়োভানি লো সেলসোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তাঁদেরও জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ বার দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি কার্যত আর্জেন্টিনার একটি গোটা প্রজন্মের বিদায়ের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

মেসির উত্তরসূরিদের নিয়ে আশাবাদী স্কালোনি। তাঁর কথায়, মেসির অভাব কোনও একজন ফুটবলার পূরণ করতে পারবেন না। গোটা দলকে একসঙ্গে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেকের পর প্রায় ২১ বছর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মেসি। দেশের হয়ে ২০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্টও। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকা এবং ফাইনালিসিমা। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, একটি যুগের সমাপ্তির মুহূর্তও।

আরও পড়ুন : Gaza Conflict: জাতীয় সঙ্গীতে নতমস্তক, নেই করমর্দন! নেশনস লিগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর আয়ারল্যান্ড