The NewsNest Desk: চিজের জন্য বিখ্যাত সুইজারল্যান্ড। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের হাতেই এবার পৌঁছল ভারতের তিন বিশেষ ধরনের আর্টিজানাল চিজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে উপহার দিয়েছেন ‘গুলমার্গ’, ‘কোনার্ক’ এবং ‘ইয়েওর’—ভারতীয় কারিগরদের তৈরি এই তিন অভিনব চিজ। ইউরোপীয় চিজ তৈরির ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিলেও প্রতিটির স্বাদ ও তৈরির পদ্ধতিতে রয়েছে ভারতীয় নিজস্বতা। মুম্বইয়ের পুরস্কারজয়ী চিজ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ইলেফথেরিয়া চিজ’-এর তৈরি এই তিন চিজ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ফরাসি ও সুইস চিজের ধাঁচে তৈরি হলেও ভারতীয় উপাদান ও স্বাদের মেলবন্ধনই এগুলিকে আলাদা করে তুলেছে।
গুলমার্গ—হৃদয়ের মতো দেখতে ব্রি চিজ
তিনটির মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া ‘গুলমার্গ’। ফরাসি ব্রি চিজ থেকে অনুপ্রাণিত এই চিজ তৈরি করা হয় পাস্তুরাইজড গরুর দুধ দিয়ে। নামের সঙ্গে মিল রেখেই এর আকৃতি তৈরি করা হয়েছে হৃদয়ের মতো। গুলমার্গের বাইরে রয়েছে সাদা, নরম ও ফুলের মতো স্তরযুক্ত ‘ব্লুমি রাইন্ড’। ভিতরের অংশ অত্যন্ত নরম এবং মসৃণ। স্বাদে মাখনের মতো ক্রিমি ভাবের পাশাপাশি পাওয়া যায় হালকা মাশরুম ও মাটির গন্ধ। সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ জারন করার পর এই চিজ প্রস্তুত করা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরেও গুলমার্গের সাফল্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ‘মানডায়াল দো কুয়েজো দো ব্রাসিল’ প্রতিযোগিতায় এই চিজ ‘সুপার গোল্ড’ পুরস্কার পেয়েছে।
কোনার্ক—ফরাসি টোমে ভারতীয় স্বাদ
‘কোনার্ক’ তৈরি হয়েছে ফরাসি টোম চিজের ধাঁচে। এর বাইরের অংশ তুলনামূলক রুক্ষ হলেও ভিতরের অংশ নরম ও মসৃণ। স্বাদে রয়েছে হালকা মাটির গন্ধ বা ‘আর্থি নোট’, সঙ্গে সামান্য টকভাব। কোনার্ক শুধু খাওয়ার জন্য নয়, রান্নাতেও বেশ জনপ্রিয়। ভালোভাবে গলিয়ে গ্রিলড চিজ স্যান্ডউইচ, সাওয়ারডো টোস্ট কিংবা বিভিন্ন বেকড ডিশে ব্যবহার করা যায়। আন্তর্জাতিক চিজ প্রতিযোগিতাতেও কোনার্কের সাফল্য রয়েছে। ২০২৩ সালে নরওয়ের ‘ওয়ার্ল্ড চিজ অ্যাওয়ার্ডস’-এ সোনা এবং ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডে রুপোর পুরস্কার পেয়েছে এই ভারতীয় আর্টিজানাল চিজ।
ইয়েওর—সুইস গ্রুয়েরে ভারতীয় চমক
তিনটি চিজের মধ্যে সবচেয়ে আলাদা ‘ইয়েওর’। সুইস গ্রুয়ের চিজ থেকে অনুপ্রাণিত এই চিজ দীর্ঘ আট থেকে নয় মাস ধরে জারন করা হয়। ফলে এর স্বাদে বাদামের মতো একটি মৃদু অনুভূতি পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে হালকা মিষ্টি ও হার্বাল স্বাদ। তবে ইয়েওরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব রয়েছে এর রাইন্ডে। এতে ব্যবহার করা হয় শুকনো গোলাপের পাপড়ি এবং মৌরি। ফলে সুইস চিজ তৈরির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশেছে একেবারে ভারতীয় সুগন্ধ ও স্বাদ। ইয়েওর গলিয়ে ফন্ডু, গ্রিলড ডিশ কিংবা বিভিন্ন গরম খাবারে ব্যবহার করা যায়।
গুলমার্গ, কোনার্ক এবং ইয়েওর—তিনটিই ইউরোপীয় চিজ তৈরির ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু এগুলিকে নিছক বিদেশি চিজের অনুকরণ বলা যায় না। আলাদা জারন পদ্ধতি, ভারতীয় উপাদান এবং নিজস্ব স্বাদের কারণে প্রতিটি চিজই তৈরি করেছে নিজস্ব পরিচয়। সুইজারল্যান্ডের মতো চিজের দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা দেশে এই তিন ভারতীয় চিজের উপস্থিতি তাই শুধু সৌজন্য উপহারের ঘটনা নয়। ভারতীয় আর্টিজানাল চিজ প্রস্তুতকারকদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং দেশীয় স্বাদের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যাওয়ার দিক থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন : Pumpkim: মিষ্টি কুমড়োর এই ১০ উপকারিতা জানলে আর হেঁসেল ছাড়া করতে ইচ্ছা হবে না