The NewsNest Desk : মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকার SIR বা Special Intensive Revision নিয়ে এবার মুম্বইয়ের রাজপথে একজোট হলেন দুই ঠাকরে। শিবসেনা (ইউবিটি)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রধান রাজ ঠাকরে রবিবার একসঙ্গে নেতৃত্ব দিলেন ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’-র। তাঁদের মূল দাবি, মহারাষ্ট্রে SIR প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।
দক্ষিণ মুম্বইয়ের মেট্রো সিনেমা থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল এগোয় বৃহন্মুম্বই পুরনিগম বা বিএমসি-র সদর দফতরের দিকে। কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারপন্থী এনসিপির নেতারাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট ও বিজয় ওয়াদেত্তিবারের পাশাপাশি এনসিপি (এসপি)-র জয়ন্ত পাটিল, শশীকান্ত শিন্ডে, জিতেন্দ্র আওহাদ এবং অনিল দেশমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ব্যবহার করা হয়নি। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল শুধুই জাতীয় পতাকা।
SIR বাতিলের দাবি রাজ ঠাকরের
‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’-য় রাজ ঠাকরে সরাসরি মহারাষ্ট্রের SIR বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশে ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবি তোলেন তিনি।
রাজ ঠাকরের বক্তব্য, ২০১৭-১৮ সাল থেকেই তিনি ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। তাঁর দাবি, হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কীভাবে তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যালট পেপারে হওয়া উচিত এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানো প্রয়োজন।
তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের SIR-এর পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় আগের তালিকার তুলনায় ২ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৭ জন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। নির্বাচন দফতরের ব্যাখ্যায়, অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল, মৃত, অন্যত্র নিবন্ধিত বা একাধিকবার নাম থাকা-সহ বিভিন্ন কারণে বহু ভোটারের গণনাপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এই সংখ্যাকেই সামনে রেখে বিরোধীরা মহারাষ্ট্র SIR নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলছে। তবে খসড়া তালিকায় নাম না থাকা মানেই স্থায়ী ভাবে ভোটাধিকার হারানো নয়; দাবি ও আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়াও রয়েছে।
উদ্ধবের নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার
মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির ‘অস্ত্র’ হিসেবে কাজ করছেন। SIR-এর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উদ্ধবের প্রশ্ন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অবৈধ বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই লক্ষ্য হয়, তাহলে কত জন অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্ত হয়েছেন?
উদ্ধব আরও বলেন, বিরোধীদের লড়াই কোনও নির্দিষ্ট দল, নেতা, ধর্ম বা জাতির বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের অভিযোগও তোলেন তিনি।
২ কোটির বেশি নাম বাদ যাওয়াকে ঘিরেই বিতর্ক
মহারাষ্ট্রের SIR ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের মূল আপত্তি তৈরি হয়েছে খসড়া তালিকায় ২ কোটির বেশি নাম না থাকা নিয়ে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের ভোটার তালিকার ২১ শতাংশেরও বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই।
পুনে, থানে, মুম্বই শহরতলি, নাগপুর, নাসিক এবং মুম্বই শহর—একাধিক এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের গণনাপত্র সংগ্রহ করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নাম নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
কংগ্রেসেরও নিশানায় নির্বাচন কমিশন
মিছিলে কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাটও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন থোরাট। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে বর্তমান ব্যবস্থার একটি প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য আন্দোলনের ডাক দেন তিনি।
বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ
অন্যদিকে, ঠাকরেদের এই গর্জন মোর্চা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশিস শেলার এই কর্মসূচিকে ‘শেয়ালদের মিছিল’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে হারলেই বিরোধীরা কখনও নির্বাচন কমিশন, কখনও ইভিএমকে দায়ী করে।
বিজেপির আরও দাবি, জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেন। ফলে ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি এই পদে ছিলেন না। ইভিএম নিয়েও বিজেপি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে।
তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রবিবারের Virat Garjana Morcha মহারাষ্ট্রের SIR বিতর্ককে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করল। একদিকে বিরোধীদের SIR বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ—মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এখন আরও তীব্র।