The NewsNest Desk: মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপুজোর বিশেষ অনুষ্ঠান ঘিরে বড়সড় প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দু’জনেরই ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে কলকাতার ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে দিল্লি থেকে নবান্নকে জানানো হয়েছে। ফলে তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে জমকালো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বাতিল না হলেও আকারে অনেকটাই ছোট করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও ইডেনের অনুষ্ঠান পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে রাজ্যের সব মন্ত্রীকে মহালয়ার ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই এ বারের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের তরফে বড় আকারের সরকারি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সামনে রেখেই ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিসর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
প্রাথমিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ দু’জনেরই কলকাতার অনুষ্ঠানে আসার বিষয়ে সম্মতি ছিল বলে জানা গিয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্ধারিত কর্মসূচি এবং ব্যস্ততার কারণে মহালয়ার ইডেনের অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি সম্ভব হচ্ছে না বলে রাজ্যকে জানানো হয়।
তবে কলকাতায় অমিত শাহের সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ইডেনের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত না থাকলেও দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শহরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কলকাতার একাধিক পুজোর উদ্বোধনে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রের আরও কয়েক জন মন্ত্রীও পুজোর দিনগুলিতে কলকাতায় এসে বিভিন্ন পুজো পরিক্রমায় অংশ নিতে পারেন বলে খবর।
রাজনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। গত কয়েক বছর ধরে কলকাতার দুর্গাপুজোয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কলকাতার পুজোয় উপস্থিতি মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট পুজোকেই ঘিরে ছিল। বিশেষ করে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোয় বিজেপি নেতাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজোতেও দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে কখনও উদ্বোধন, কখনও পুজো পরিক্রমায় দেখা গিয়েছে।
সেই পরিস্থিতির তুলনায় এ বার ছবিটা বদলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে নতুন বার্তা বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মহালয়ার ইডেনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ থাকছেন না—এই সিদ্ধান্তে সরকারি আয়োজনের জৌলুস কিছুটা কমলেও দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কলকাতা সফর নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। ফলে ইডেনের অনুষ্ঠান ছাপিয়ে পুজোর বাকি দিনগুলিতে কলকাতায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিই এখন নজরে।