The NewsNest Desk : রাজ্যের সরকারি ও স্কুলের গ্রন্থাগারে কোন ধরনের বই রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গ্রন্থাগারগুলিতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বইকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর বই আর না কেনার কথাও বলেন তিনি।
ঊনবিংশ শতকের সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, বিদ্যাসাগর যে বিপুল জ্ঞান ও সাহিত্যকীর্তি রেখে গিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, সরকারি ও স্কুলের গ্রন্থাগারে বিদ্যাসাগরের বই সংগ্রহ করে রাখা প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের গ্রন্থাগার সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বীরসিংহের স্থানীয় গ্রন্থাগারটিকে একটি সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যাসাগরকে নিয়ে গবেষণা করতে আসা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ থাকার জায়গা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে। গবেষকদের জন্য কটেজ তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনকে জমি খুঁজতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বীরসিংহকে পর্যটন ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। গ্রামে তৈরি হবে ‘বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যান’ ও একটি কমিউনিটি হল। রাস্তা উন্নয়ন, সৌরবাতি বসানো এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলির সংস্কারেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
‘এপাং ওপাং ঝপাং’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কবিতা। কবিতাটি প্রকাশের পর থেকেই সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের জুনে রাজ্যের সরকারি ও জনসাধারণের গ্রন্থাগারগুলির বইয়ের সংগ্রহ নতুন করে সাজানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছিল। শিক্ষামূল্য বা বৌদ্ধিক গুরুত্ব কম—এমন কিছু বই বাদ দেওয়ার প্রস্তাবের সঙ্গে এই বইটির নামও আলোচনায় আসে।
বীরসিংহের উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের স্মৃতি, তাঁর সাহিত্য ও সমাজসংস্কারের কাজকে আরও বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।