Mamata Backs Congress in Nandigram Bypoll After TMC Candidate Withdraws

Mamata : নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী নেই, কংগ্রেসকেই সমর্থন মমতার! রেজিনগরে সিদ্ধান্ত পরে

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের সমীকরণে আচমকাই বড় বদল। নিজের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ওই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে রেজিনগর নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি তিনি। ফলে আগামী উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়ে আলাদা প্রার্থী থাকছেন না।

শুক্রবার সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসকে ‘সিস্টার পার্টি’ এবং নিজেদের ‘স্বাভাবিক জোটসঙ্গী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পাশে থাকবে তাঁর শিবির। একইসঙ্গে বিজেপিকে সমর্থনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেছেন।

নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতাকে দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমার এক দিন আগে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তার আগে তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই সাক্ষাতের পরেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সঞ্চিতার সরে দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নাম-প্রতীক হারানোর পরেই নন্দীগ্রামে নতুন সমীকরণ

নন্দীগ্রামের এই ঘটনা ঘটল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ঠিক পরেই। দলীয় বিবাদ মেটার আগেই আসন্ন উপনির্বাচন চলে আসায় কমিশন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় দুই গোষ্ঠীকেই পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল-ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এর পর দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নিতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘লিফাফা’ প্রতীক।

এই সিদ্ধান্ত নিয়েই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও শরদ পাওয়ারের এনসিপির দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত অতীত ঘটনাও তিনি টেনে আনেন। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তটি দলীয় বিবাদের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসকে সমর্থনের পিছনে কী বার্তা?

নন্দীগ্রামে সরাসরি প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্তকে বৃহত্তর বিরোধী সমন্বয়ের বার্তা হিসেবেই তুলে ধরেছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট।

তবে এই সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আগামী দিনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে আরও কোনও সমন্বয়ের পথ খুলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ রেজিনগর নিয়ে মমতা এখনও নিজের অবস্থান ঘোষণা করেননি। তিনি জানিয়েছেন, ওই আসনে কাকে সমর্থন করা হবে, তা পরে ঠিক করা হবে।

নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে মমতা শিবিরের সরাসরি নির্বাচনী লড়াই আপাতত শেষ। তার বদলে কংগ্রেস প্রার্থীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর গোষ্ঠী। অন্যদিকে দলের নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই সমীকরণ আরও বদলাতে পারে।