যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানের ‘মূল প্রতিনিধিদল’-কে ভিসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
তবে ভিসা মিললেও ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য একাধিক বিধিনিষেধ থাকছে। তাঁদের যাতায়াতের ওপর সীমা বজায় থাকবে এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ বার ইরানের প্রতিনিধিদল গত বছরের তুলনায় ছোট হবে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের আবহে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সংঘাতও অব্যাহত। অন্যদিকে, হরমুজ ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের কিছু আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই কারণেই ইরানের মূল প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় এসেছে অন্য একটি সিদ্ধান্তের কারণে। এর ঠিক আগের দিন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তার ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণ’ করছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ পরে আব্বাসকে ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য রাখার অনুমতি দিয়েছে।
ইরানের ক্ষেত্রে তাই ভিসা অনুমোদন এবং ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা—দুটি সিদ্ধান্তই আগামী সপ্তাহের রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে ওয়াশিংটনের নীতিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে পারে।