The NewsNest Desk: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনজীবীদের একাধিক প্রশ্ন করেন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাসের কারণ জানিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে আদালত।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনজীবীদের উদ্দেশে জানতে চান, শরীরে ছোট একটি পাথরের টুকরো আঘাত করলেও তার পরিণতি কতটা গুরুতর হতে পারে, সে বিষয়ে তাঁদের ধারণা আছে কি না। কেন্দ্রের আইনজীবী আদালতের কাছে সময় চাওয়ার পর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, সেই সময়ের মধ্যে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের Z+ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েই মূলত এই মামলা। তাঁর আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর তড়িঘড়ি করে অভিষেকের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর একাধিক কর্মসূচিতে অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অভিষেকের আইনজীবীর আরও দাবি, আগে যে মাত্রার নিরাপত্তা তাঁকে দেওয়া হত, তা হঠাৎ প্রত্যাহারের ফলে তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ এখনও মামলার এক পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিবর্তন করা হয়নি। গোয়েন্দা বিভাগের ‘থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই অভিষেকের নিরাপত্তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে রাজ্যের বক্তব্য।
কেন্দ্রের তরফেও পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আইনজীবীর বক্তব্য, পূর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে Z+ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল রাজ্য পুলিশের তরফেই। ফলে তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারেই পড়ে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে Z+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার বা পুনর্নির্ধারণ করা হল, তা রিপোর্টে স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। এই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মূল্যায়ন কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। এখন রাজ্যের রিপোর্ট এবং কেন্দ্র-রাজ্যের পরবর্তী বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে। আদালতের সামনে জমা পড়া রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশ কী হয়, সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন : Swiggy অ্যাপে এক দাম, রেস্তরাঁয় বিল প্রায় দ্বিগুণ! সুইগি ও রেস্তরাঁকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ