Parliamentary panel reshuffle: Sudhanshu Trivedi replaces Dola Sen, while Kakoli Ghosh Dastidar takes over from Kirti Azad.

Parliamentary panel : সরানো হল কীর্তি – দোলাকে, দুই সংসদীয় কমিটির শীর্ষপদ গেল মমতাপন্থী তৃণমূলের হাত থেকে

The NewsNest Desk:  সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে বড়সড় রদবদল হল। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন পদ আর থাকল না। রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন পদে কীর্তি আজাদের জায়গায় এলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরানো হল তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী।

শনিবার ২০২৬-২৭ সালের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। নতুন তালিকায় অধিকাংশ কমিটির চেয়ারপার্সনকেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির শীর্ষপদে বদল এসেছে, যার মধ্যে তৃণমূলের দুই চেয়ারপার্সন পদ হারানো অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটিতে কীর্তি আজাদের জায়গায় কাকলি ঘোষদস্তিদারকে বসানো হয়েছে। কাকলি বর্তমানে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত এবং ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার মুখ্যসচেতক হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ক কমিটিতে দোলা সেনের জায়গায় চেয়ারপার্সন হয়েছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। ফলে দুই কমিটির নেতৃত্বেই তৃণমূলের পরিবর্তে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধিত্ব তৈরি হল।

এই রদবদলের মধ্যে অবশ্য সব সংসদীয় কমিটিতে বড় পরিবর্তন হয়নি। শিল্প বিষয়ক কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে ডিএমকের তিরুচি শিবা এবং খাদ্য, উপভোক্তা বিষয়ক ও গণবণ্টন সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে কে কানিমোঝিকে বহাল রাখা হয়েছে। এনডিএ-র শরিক দলগুলির একাধিক সাংসদও তাঁদের আগের দায়িত্বে থাকছেন।

বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন পদেও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরকে ফের ওই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি, পশুপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবেও চরণজিৎ সিংহ চান্নিকে বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক পুনর্গঠনে ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হয়েছে। তবে তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারপার্সন পদ হারানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক দিক থেকে আলাদা তাৎপর্য তৈরি করেছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন এবং পরে সংসদীয় দলেও দলবদলের ঘটনা সামনে আসে। একাধিক সাংসদ দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার পর সংসদে বিভিন্ন দলের শক্তির সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সংসদীয় কমিটির নতুন নেতৃত্বের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

বিশেষ করে কাকলি ঘোষদস্তিদারের নতুন দায়িত্ব রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে। কারণ, তিনি আগে তৃণমূলেরই সাংসদ ছিলেন। পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁর নেতৃত্বে আসা এবং একই কমিটি থেকে কীর্তি আজাদের সরে যাওয়া একই সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকটি সামনে এনেছে। অন্য দিকে, দোলা সেনের জায়গায় সুধাংশু ত্রিবেদীর নিয়োগ বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে সরাসরি দলীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলি বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের নীতি, বাজেট, কাজকর্ম এবং আইন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখে। তাই চেয়ারপার্সন পদগুলিতে এই ধরনের পরিবর্তন সংসদীয় নজরদারি ও কমিটির কাজের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের পুনর্গঠনে অধিকাংশ পদে পুরনো নেতৃত্ব বজায় থাকলেও তৃণমূলের দুই কমিটি হারানো এবং কাকলি ঘোষদস্তিদারের নতুন দায়িত্ব পাওয়া রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।