কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর: সময় বদলেছে, জমানা বদলেছে। এবার আর সাধু-সন্তদের ভয় দেখানো বা তাঁদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া যাবে না—নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি নিজেও গীতার একটি অধ্যায় পাঠ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাধু-সন্তদের অপমানের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু।
নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, সাধু-সন্তরা সনাতন ধর্মের প্রচার করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। স্বাধীন দেশে কেউ সেই বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডকে গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে অপমান করা বা ভয় দেখানোর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলেই তাঁর বক্তব্য।
সম্প্রতি বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানো এবং তাঁকে অপমান করার ঘটনায় প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সাধু-সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অপমান করলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: ‘কে লাল, কে নীল দেখব না,’ শ্রীরামপুর থেকে বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক মমতার
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, এবার তাঁরা ভয় না পেয়ে নিজেদের ধর্মীয় কর্মসূচি করতে পারবেন। গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠ থেকে শুরু করে শঙ্খ, মৃদঙ্গ ও খঞ্জনি বাজানো—ধর্মীয় আচার পালনে কোনও ভয় থাকার কথা নয় বলেই তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, “মৌসমও বদলে গিয়েছে, জমানাও বদলে গিয়েছে।”
শুভেন্দু আরও বলেন, সমাজে নিজেদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতি নিয়ে মানুষ যাতে প্রকাশ্যে চর্চা করতে পারেন, সেই পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। এদিনের বক্তব্যে তিনি ‘টিকা, শিখা, ধুতি, তুলসী’ এবং গোমাতার সুরক্ষার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধু-সন্তদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নেতাজি ইন্ডোরের অনুষ্ঠান থেকেই আগামী কর্মসূচির ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, কলকাতায় বড় আকারের গীতাপাঠের কর্মসূচি এর আগেও হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচি ঘিরে বড় জমায়েত হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আসেননি; তাঁর বার্তা পাঠানো হয়েছিল আয়োজকদের কাছে।
আরও পড়ুন : Sonam Wangchuk :২ অক্টোবর গ্যানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ‘আজাদি’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর সমালোচনা করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে ‘রাষ্ট্রবাদী জনতা’ তা মেনে নেবে না। এদিন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া ভাষায় রাজনৈতিক আক্রমণ শানান এবং বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিক্রিয়া জানাবে। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে ‘রাষ্ট্রবাদী জনতা তাঁকে উপড়ে ফেলবে’ বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায়।
সব মিলিয়ে, রবিবার নেতাজি ইন্ডোরের গীতাপাঠের মঞ্চ ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যেরও ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে আশ্বাস ও ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের ঘোষণা, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা—দুই দিক থেকেই শুভেন্দুর বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।