Mamata Banerjee calls for opposition unity amid Gyanesh Kumar and SIR row

Mamata Banerjee: ‘কে লাল, কে নীল দেখব না,’ শ্রীরামপুর থেকে বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক মমতার

শ্রীরামপুর:  মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে তিনি জানান, কোনও দলের রাজনৈতিক রং নয়, মানুষের স্বার্থে কোন দল বা শক্তি কাজ করছে, সেটিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মমতা বলেন, “কোন পার্টি, কী কালার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তার সঙ্গে।” তাঁর কথায়, “কে লাল, কে নীল, কে হলুদ দেখার দরকার নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতেই হবে।” কোনও নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সমীকরণের বদলে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।এই বক্তব্যের আগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক নিয়ে রাহুল গাঁধীর সঙ্গে মমতার ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং এসআইআর-সহ বিভিন্ন বিষয় সেখানে আলোচনায় আসতে পারে।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গেও মমতার ফোনে কথা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে যৌথ অবস্থান তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শ্রীরামপুরের সভায় জ্ঞানেশ কুমারকেও আক্রমণ করেন মমতা। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি পুনরায় জানান এবং বলেন, তাঁর দল এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশন মমতার এই অভিযোগগুলির সঙ্গে একমত নয় এবং এসআইআর নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল নিয়েও ফের নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল হারেনি, বরং জোর করে হারানো হয়েছে। ইভিএম ও গণনাকেন্দ্র নিয়ে তাঁর তোলা অভিযোগও তিনি পুনরাবৃত্তি করেন। এই দাবিগুলি মমতার রাজনৈতিক বক্তব্য; এগুলির স্বাধীন প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত নয়। সভায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও পুলিশকে বার্তা দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। পুলিশকে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক ঘিরে তাই জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির সমন্বয় কতটা বাড়ে, সে দিকে নজর থাকছে।