কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মিলনের জামিনের আবেদনের শুনানিতে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হবে এবং তিনি উপনির্বাচনে লড়তে পারবেন। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার বিকেল ৪টেয় হওয়ার কথা।
গত সপ্তাহে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মামলাগুলিতে খুন, খুনের চেষ্টা, জমায়েত, লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মিলনের আইনজীবীরা বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মিলন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রার্থী। তাঁর হেফাজতের মেয়াদ নির্বাচনের পর পর্যন্ত থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে শুনানির অনুমতি দেয়। আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর জামিনের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার জানান, আসন্ন উপনির্বাচনে মিলনকে লড়াই করতে দেওয়া হোক। তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দেবেন।
এর আগে মিলনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও কয়েকটি মামলায় হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল। ২২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য মামলাগুলিতে আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। পরে খেজুরি থানার ২০০৭ সালের আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে।
বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট ওই খেজুরি মামলায় ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলনের বিরুদ্ধে পুলিশকে কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার হিসেবে গণ্য না করার কথাও জানানো হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, ২০০৭ সালের মামলায় এতদিন পরে কেন তাঁকে ‘শো অ্যারেস্ট’ করা হল।
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর। ফলে ভোটের আগে মিলন প্রধানের জামিন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।