The NewsNest Desk : সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের দখলে থাকা একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে পাঁচ নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় নাবিক। নিহত বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের এবং একজন মায়ানমারের নাগরিক বলে জানিয়েছে সোমালিয়ার আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পন্টল্যান্ডের সামুদ্রিক পুলিশ বাহিনী। অভিযানের পর ট্যাঙ্কারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। ঘটনায় আরও তিন পাকিস্তানি নাবিক ও এক ভারতীয় আহত হয়েছেন।
পন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে জলদস্যুদের দখলে থাকা পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি অনার ২৫-এ অভিযান চালানো হয়। সোমালিয়ার বান্দর বেইলা জেলার উপকূলের কাছে ধারিন-বার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্যাঙ্কারটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। বাকি জলদস্যুদের খোঁজে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে নাবিকদের কীভাবে বা কখন হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পন্টল্যান্ড পুলিশের অভিযোগ, ট্যাঙ্কারটি দখলে রাখা সোমালি জলদস্যুরাই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী ইউনাভফোর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মোগাদিশুর দিকে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্কারটি ছিনতাই করা হয়েছিল। জাহাজটিতে প্রায় ১৭ জন নাবিক ছিলেন এবং তাঁদের অধিকাংশই পাকিস্তানের নাগরিক। ট্যাঙ্কারটিতে জ্বালানি তেলজাত পণ্য ছিল।
বিবিসি সোমালির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের নাবিকদের মধ্যে ১০ জন পাকিস্তানি, চারজন ইন্দোনেশীয়, একজন ভারতীয়, একজন শ্রীলঙ্কার এবং একজন মায়ানমারের নাগরিক ছিলেন। ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ১৮,৫০০ ব্যারেল জ্বালানি ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল জাহাজটি ছিনতাই হয়।
এদিকে একই দিনে সোমালিয়ার উপকূলে আরও একটি জলদস্যু-অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। এমটি ইউরেকা নামে টোগোর পতাকাবাহী একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র জলদস্যু সরে যায়। জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিক—আটজন মিশরীয় ও চারজন ভারতীয়—অক্ষত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন জলদস্যুদের দখলে থাকার সময় ওই জাহাজের ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানি কার্গোর একটি বড় অংশ সমুদ্রে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল এবং পালানোর আগে জলদস্যুরা জাহাজের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি।