নয়াদিল্লি: এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে ওঠা প্রশ্নের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের দাবি জানালেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের উচিত স্বচ্ছভাবে সব তথ্য সামনে আনা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের তৃতীয় দফার এসআইআর বাতিল করে প্রাক-এসআইআর ভোটার তালিকায় ফিরে যাওয়া। লাভাসার মতে, তৃতীয় দফার এই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি প্রতিবেদনের পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি এসআইআর চলাকালীন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গে লাভাসা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতের অমিলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেটিকে সরাসরি ‘মতবিরোধ’ বলা যায় কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর প্রশ্ন, কমিশনারদের লেখা চিঠিগুলির কী হয়েছিল, সেগুলি কীভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—এই সমস্ত তথ্য কমিশনের প্রকাশ করা উচিত। কোনও বেআইনি পদক্ষেপ হয়ে থাকলে তার দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন : Punjab : ‘ভূত’, ‘ধর্ষণ’, ‘আত্মহত্যা’! ২৪ ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত পঞ্জাবের দুই বিশ্ববিদ্যালয়
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গেও কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন লাভাসা। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকায় ১৬ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে একসঙ্গে আবেদন জমা পড়ার ঘটনা নজিরবিহীন এবং এই আবেদনগুলি কারা করেছিলেন, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় এসআইআর নিয়ে মোট ৩৮,৩১,২৪৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ ছিল বাদ পড়া বা মুছে যাওয়া নাম ফের অন্তর্ভুক্তির আবেদন এবং ১৬ লক্ষের কিছু বেশি ছিল নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি।
ফর্ম ৬ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার। নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির এই ফর্মে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে কমিশন একতরফাভাবে নিয়ম বদলাতে পারে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি ভোটার হিসেবে যোগ্য হলে তাঁর বাবা-মা বা দাদা-দিদা আগে ভোটার ছিলেন কি না, তা ভোটাধিকার নির্ধারণের ভিত্তি হতে পারে না।
আরও পড়ুন : Gyanesh Kumar আগ্রায় জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির গেটে ‘গদ্দার, ভোট চোর’, SIR নিয়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ
লাভাসার বক্তব্য, ভোটার হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণের মূল ক্ষমতা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) হাতে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা মূলত ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ। গোয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যোগ্য বলে চিহ্নিত ৯৭ জন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে দীর্ঘ সময় লাগা নিয়েও কমিশনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।