The NewsNest Desk : Cancer drug pricing, exorbitant medicine prices এবং corporate hospitals—এই তিন বিষয়কে ঘিরেই ফের বড় প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। মাত্র ২,৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ক্যানসারের ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা MRP কীভাবে প্রায় ২৭ হাজার টাকা হতে পারে, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। অর্থাৎ, যে ওষুধের দাম সরবরাহ পর্যায়ে ২,৭০০ টাকা, সেটিই রোগীর কাছে পৌঁছনোর সময় হয়ে যাচ্ছে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারা লাভবান হচ্ছে, তা নিয়েও আদালত জানতে চেয়েছে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের দাম নির্ধারণ এবং হাসপাতালগুলিতে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম যদি এভাবে বেড়ে যায়, তাহলে সাধারণ রোগীর উপর তার সরাসরি আর্থিক চাপ পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে হয় এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের খরচ চিকিৎসার মোট ব্যয়ের বড় অংশ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই মামলার শুনানিতে MRP বনাম PTR, অর্থাৎ প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারী পর্যায়ের দাম এবং রোগীর কাছ থেকে নেওয়া সর্বোচ্চ খুচরো দামের বিপুল ফারাক নিয়ে আলোচনা হয়। আদালত জানতে চায়, একটি ওষুধের সরবরাহমূল্য যেখানে ২,৭০০ টাকা, সেখানে MRP ২৭ হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিকতা কী। এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ওষুধ বিক্রির বিভিন্ন স্তরে ঠিক কতটা মার্জিন রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের আলোচনায় উঠে আসে DPCO বা Drug Price Control Order-এর কথাও। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে রোগীদের কতটা স্বস্তি মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আদালত এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে, যেখানে ওষুধের দামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কমানো যায়।
আরও পড়ুন : AI: এআই ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু’ ঘটাতে পারে, সতর্ক করলেন বিল গেটস Bill Gates
শুধু ওষুধ নয়, হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর দাম নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে corporate hospitals-এর নিজস্ব ফার্মেসি বা নির্দিষ্ট কেমিস্টের মাধ্যমে রোগীদের ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। আদালতের প্রশ্ন, কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী যদি বাইরের তুলনায় অনেক বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হন, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থের সুবিধা শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাচ্ছে?
শুনানিতে হাসপাতালের ফার্মেসি ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসকদের জেনেরিক ওষুধ প্রেসক্রাইব করার বিষয়টিও উঠে আসে। জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বাড়লে রোগীদের চিকিৎসা খরচ কমানো সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও আদালতের আলোচনার অংশ ছিল। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই একই সক্রিয় উপাদান থাকা সত্ত্বেও ব্র্যান্ড, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিক্রির স্তরভেদে ওষুধের দামে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে ওষুধ বিক্রিতে ১৬ শতাংশের একটি অভিন্ন মার্জিন রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আদালত জানতে চেয়েছে, সরবরাহ থেকে খুচরো বিক্রি পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন মার্জিন কার্যকর করা গেলে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে কি না। যদিও এটি এখনও আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ নয়, তবে আলোচনাটি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিগত প্রশ্ন সামনে এনেছে।
এর আগের শুনানিতেও সুপ্রিম কোর্ট ক্যানসারের ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই ধরনের অতিরিক্ত দামকে অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছিল। এবার ২,৭০০ টাকার ওষুধের MRP ২৭ হাজার টাকা হওয়ার উদাহরণ সামনে আসায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন : Pheromone Maxxing: গায়ের দুর্গন্ধেই প্রেম! ‘ সত্যিই কি ঘামের গন্ধে আকর্ষণ বাড়ে?
ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনীয়তা এই বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একজন রোগীকে কয়েক সপ্তাহ নয়, অনেক সময় মাসের পর মাস বা তারও বেশি সময় ধরে নির্দিষ্ট ওষুধ নিতে হয়। ফলে প্রতিটি ওষুধের দামে কয়েক হাজার টাকার পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। সেই শুনানিতে ওষুধের দাম, হাসপাতালের ফার্মেসি ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এখন নজর থাকবে, ক্যানসারের মতো জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দিষ্ট নীতিগত নির্দেশ দেয় কি না।