The Newsnest Desk: অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal), মোদী (PM Modi) ডিগ্রি মামলায় (degree case) এবংগুজরাট হাইকোর্ট (Gujarat High Court)এই তিন বিষয়কে ঘিরে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড় রায় দিল গুজরাত হাই কোর্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষাগত ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের জন্য কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন বা CIC-এর দেওয়া নির্দেশ খারিজ করে একক বিচারপতির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীর আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে কেজরীর উপর চাপানো ২৫ হাজার টাকার খরচের নির্দেশও বহাল রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি ডিএন রায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, একক বিচারপতির রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও কারণ তারা খুঁজে পায়নি। ফলে কেজরীর আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ একক বিচারপতির বেঞ্চ ২০১৬ সালে CIC-এর দেওয়া নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছিল। একই সঙ্গে কেজরীর বিরুদ্ধে ২৫ হাজার টাকা খরচ চাপানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন : Congress: ‘ভোটে কারচুপি’, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে মোদীর পদত্যাগও চাইল কংগ্রেস SIR স্থগিতের দাবি
মামলার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। সেই সময় অরবিন্দ কেজরী CIC-কে চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকারি রেকর্ডে নিজের সম্পর্কে থাকা তথ্য প্রকাশ্যে আনা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। সেই সূত্রেই মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য কেন প্রকাশ করা হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন CIC এম শ্রীধর আচার্যুলু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়কে নরেন্দ্র দামোদর মোদীর নামে থাকা ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে কেজরীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে একক বিচারপতির বেঞ্চ CIC-এর নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন কেজরী। মূলত ২৫ হাজার টাকা খরচ চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই তাঁর আইনজীবী আবিষেক মনু সিংভি আপত্তি জানান। সিংভির যুক্তি ছিল, কেজরী নিজে দীর্ঘ সময় ধরে ওই মামলা চালিয়ে যাননি। তাঁর বক্তব্য, CIC নিজের উদ্যোগে বা ‘suo motu’ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি গ্রহণ করেছিল এবং একটি চিঠির ভিত্তিতে কেজরীকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছিল।
কেজরীর পক্ষ আরও দাবি করে, গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে জানিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে রয়েছে। সেই তথ্য যদি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকে, তাহলে তা সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকার কথা এবং RTI আইনের আওতায় বিষয়টি নতুন করে টেনে আনার প্রয়োজন থাকার কথা নয়—এমন যুক্তিও দেওয়া হয়েছিল। তবে একক বিচারপতির বেঞ্চ সেই বক্তব্য গ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেজরীর আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেজরী এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রকাশ্যেও বক্তব্য রেখেছেন। মেহতার যুক্তি ছিল, RTI আইনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কৌতূহল মেটানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এমন আবেদনের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আধিকারিকদের প্রশাসনিক সময়ও নষ্ট হতে পারে বলে আদালতে সওয়াল করা হয়।
এই মামলার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মোদীর গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য। ২০১৬ সালের মে মাসে তৎকালীন গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমএন প্যাটেল জানিয়েছিলেন, নরেন্দ্র মোদী ১৯৮৩ সালে পলিটিক্যাল সায়েন্সে এমএ পাশ করেন এবং তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬২.৩ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় এই সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করে।
তবে ডিগ্রি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক সেখানেই শেষ হয়নি। CIC-এর নির্দেশ, গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আপত্তি এবং ২০২৩ সালের হাই কোর্টের রায়ের পর কেজরী ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন। সেই আবেদনের উপর শুনানি শেষ হওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর গুজরাত হাই কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। মঙ্গলবার সেই রায় ঘোষণা করে আদালত কেজরীর আবেদন খারিজ করে দিল।
ফলে আপাতত ২০২৩ সালের একক বিচারপতির রায়ই বহাল থাকল। অর্থাৎ CIC-এর ২০১৬ সালের নির্দেশ খারিজ এবং কেজরীর উপর ধার্য ২৫ হাজার টাকার খরচ—দুই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। এই রায়ের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা PM Modi degree case-এ গুজরাত হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যায়েও কেজরীর আবেদন খারিজ হল।