কলকাতা: এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির নির্বাচনী প্রচার এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পাঁচ রাজ্যে দলের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে মোট ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে বাংলায় রাজনৈতিক প্রচারের জন্য জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও ব্যবহার করা হয়েছিল। দলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সায়ক চক্রবর্তী এবং শমীক অধিকারীর নাম তুলে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মাধ্যমে বিজেপির পক্ষে পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরি ও প্রচার করা হয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির ফান্ড থেকে সায়ক চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা এবং শমীক অধিকারীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা গিয়েছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। , সায়ক চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা এবং শমীক অধিকারীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা গিয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অবশ্য দলীয় প্রচার ও প্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছে।
সায়ককে ঘিরে ‘অলি পাব’-এ তৈরি বিফ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও এবং শমীকের ‘বাটন’ নামের ভিডিও নিয়েও ভোটের আগে বিতর্ক হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, এগুলির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। অন্যদিকে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রচারে বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়া স্বাভাবিক এবং বিজেপির ক্ষেত্রে অর্থপ্রদান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হয়েছে।
সায়কের ঘটনাটি সামনে আসার পরেই সমাজকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, “সকলের জ্ঞাতার্থে জানাই- সায়ক চক্রবর্তী, অলিপাব রেস্তোরাঁর কর্মী নাসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার অজ্ঞাতসারে গোমাংস খাওয়ানোর অভিযোগ দায়ের করে, পার্কস্ট্রিট থানায়। থানা অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে নাসিমুদ্দিনকে সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতে নেয়। শুধু এইটুকুই নয়, সায়ক চক্রবর্তী একটা ভিডিও পোস্ট করে এই অভিযোগ যে ভঙ্গিতে ছড়িয়ে দেয়, তা বাংলায় সাম্প্রদায়িক শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। আমরা বেশ কয়েকজন সায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর দর্জ করি পার্কস্ট্রিট থানায়। রাতদখল ঐক্যমঞ্চের পক্ষে শতাব্দী দাস এফআইআর করেন। এরপরে সায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানায়, সে মামলা প্রত্যাহার করছে, যা ডাহা মিথ্যা। বস্তুত মামলায় এমন কিছু ধারা যুক্ত করা আছে, যা সায়ক চাইলেই তুলে নিতে পারবে এমন নয়। ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসেই সমাধান করতে হবে। সে মামলা রয়েছে। আমরাও এফআইআর প্রত্যাহার করিনি। এই কথাগুলো এতোদিন পর আবার বলার কারণ- বিজেপি যাদের যাদের টাকা দিয়েছে তাদের মধ্যে এই সায়কও আছে, লিখিত ডকুমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটা ঠিক- শমিকবাবুকে আর কষ্ট করে বলতে হবে না, আমিই বলে দিচ্ছি- বিজেপির থেকে টাকা নিয়েছে মানেই সায়ক বিজেপির কেউ এমন নয়। টাকা নেওয়ার সংস্কৃতি বিজেপি পছন্দ করে না। এ কথা মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদিও সেই ভিডিওটা আর রাজ্য বিজেপির পেজে নেই।”
এই বিতর্কের মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিরণ দত্ত জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তিনি ভিডিও তৈরি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে লেখেন, ‘আজকে ফেসবুকে ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ দেখলাম ।’ তিনি কারও নাম না নিলেও, বুঝতে সমস্যা হয় না, ইঙ্গিত কার থুরি কাদের দিকে। ফলে এসআইআর বিতর্কের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা ও অর্থপ্রদানের বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
আরও পড়ুন : Mainpal Dhilla: জেল থেকে বিয়ের মণ্ডপে গ্যাংস্টার! ১২ ঘণ্টার প্যারোলে বিয়ে লিভ ইন পার্টনারকে