Punjab university protests erupt within 24 hours over rumours of ghost sightings, rape and suicide

Punjab : ‘ভূত’, ‘ধর্ষণ’, ‘আত্মহত্যা’! ২৪ ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত পঞ্জাবের দুই বিশ্ববিদ্যালয়

চণ্ডীগড়, ২৮ সেপ্টেম্বর: ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পঞ্জাবের দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রবিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হল। প্রথমে শুক্রবার রাতে চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ‘ভূত’, ছাত্রী নিখোঁজ এবং আত্মহত্যার গুজবকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। তার প্রায় এক দিন পর শনিবার রাতে ফাগওয়ারার লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউ-তে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছে।

চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিয়ো ও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দাবি করা হয়, দু’জন ছাত্রী হস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়েছেন বা আত্মহত্যা করেছেন। এমনকি হস্টেল থেকে চিৎকার শোনা যাওয়া এবং আগে আত্মহত্যা করা এক ছাত্রীর ‘প্রেতাত্মা’ দেখা দেওয়ার কথাও ছড়ায়। রাতেই বহু পড়ুয়া ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবি জানান। পরে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। সম্পত্তি ও পুলিশের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর এবং এক পুলিশ আধিকারিককে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে অবশ্য কোনও পড়ুয়া নিখোঁজ বা আত্মহত্যার প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও দাবি করেন, হস্টেলে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের বক্তব্য, ২৪ সেপ্টেম্বর একটি অ্যাম্বুল্যান্স এসেছিল এক পড়ুয়াকে হাসপাতালে থেকে ফিরিয়ে আনতে। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ‘ভূতুড়ে’ শব্দ নিয়ে একটি প্র্যাঙ্ককে গুজব ছড়ানোর অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে।

আরও পড়ুন : Seema Khanna: ভোটার সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ! সীমা খান্নার ‘সীমা’ নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই

এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে এলপিইউ-তে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাতেই হস্টেলের সামনে বহু পড়ুয়া জড়ো হন। পরদিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশের দু’টি গাড়িতে আগুন এবং আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেন্সিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, তিন ছাত্রীকে দিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ খণ্ডন করিয়ে ভিডিয়ো প্রকাশের পর তাঁরা ফের দাবি করেন, তাঁদের বক্তব্য চাপ দিয়ে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং অনুমতি ছাড়াই তা প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে।

ঘটনার জেরে এলপিইউ-তে ১০ দিনের জন্য পঠনপাঠন বন্ধ এবং মিড-টার্ম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

এলপিইউ-র ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পঞ্জাব কংগ্রেসের নেতারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। অন্য দিকে বিজেপি নেতা রবনীত সিংহ বিট্টু ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: UPI: ২ হাজারের বেশি লেনদেনে ০.৪% ট্যাক্স! স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট