আগ্রা, ২৮ সেপ্টেম্বর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আগ্রার বাড়ির সামনে সোমবার বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেস। এসআইআর তথা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই আগ্রার বিজয় নগরে জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির সামনে জড়ো হন কংগ্রেস ও দলের সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির মূল গেট ও দেওয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে আপত্তিকর স্লোগান লিখেছেন বলে একাধিক প্রতিবেদন জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বাড়ির বাইরে স্টিকার ও প্রচারপত্রও লাগান। পরে মূল গেট এবং দেওয়ালে হিন্দিতে ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’ ও ‘ভোট চোর’-এর মতো স্লোগান লেখা হয়। ঘটনার ভিডিয়ো ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও আগ্রার ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের কথা জানায়।
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও কংগ্রেসের মধ্যে এসআইআর নিয়ে চলা রাজনৈতিক সংঘাত। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে। সোমবার দিল্লিতেও ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস ও এনএসইউআই-এর কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন। সেখানে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
রাজস্থানের জয়পুরেও এসআইআর নিয়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।
জ্ঞানেশ কুমার ১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য ও লিখিত পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। কমিশন আরও জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সোমবারের বিক্ষোভ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।