The NewsNest Desk: মার্কিন শুল্কনীতি এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে চাপের আবহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবারের এই ফোনালাপে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদী নিজেই। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।
ফোনালাপের পর সমাজমাধ্যমে মোদী জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তবে এই ফোনালাপের সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলির একটি হল রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাক্ষরিত নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। ভারত এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে।
এর পাশাপাশি ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আমেরিকা সফরে রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
জ্বালানি প্রশ্নে ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমে প্রায় ১৭.৫ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। তবু রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে।
ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই অঞ্চলের সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে আলোচনা হয়েছে। মোদী-ট্রাম্পের এই ফোনালাপের পর এখন নজর থাকবে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি এবং রুশ তেল নিয়ে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।