The NewsNest Desk: সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই দেশের বেশ কিছু জায়গায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। দিল্লিতে পারদ নেমে গিয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৫ বছরের হিসাবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটি। টানা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং ঠান্ডা হাওয়ার জেরে উত্তর ভারতের বেশ কিছু এলাকায় রাতের দিকে ইতিমধ্যেই শীতের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এ বার কি স্বাভাবিক সময়ের আগেই হাজির হচ্ছে শীত? এর পিছনে কি এল নিনোর কোনও প্রভাব রয়েছে?
আবহাওয়া দফতর অবশ্য এখনই এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না। হাওয়া অফিসের মতে, দিল্লিতে সাম্প্রতিক পারদ পতনের সঙ্গে সরাসরি এল নিনোর যোগ নেই। মূলত সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা, বৃষ্টি এবং দিনের পর দিন মেঘলা আকাশের কারণেই তাপমাত্রা এতটা নেমেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু করে তেলঙ্গনা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টির প্রভাব দেখা গিয়েছে। দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তরাখণ্ডেও বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া ছিল।
মেঘের চাদরে দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের তাপ মাটিতে ঠিকমতো পৌঁছতে পারেনি। তার সঙ্গে বৃষ্টি এবং বাতাসে বেশি আর্দ্রতার কারণে রাতের তাপমাত্রাও কমেছে। দিল্লির সফদরজং কেন্দ্রে ২৭ সেপ্টেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা সেপ্টেম্বরের ক্ষেত্রে গত ২৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। তাহলে এল নিনোর ভূমিকা কোথায়? আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনে বড় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তার প্রভাব ভারতের আবহাওয়াতেও পড়তে পারে। কিন্তু দিল্লির বর্তমান ঠান্ডার সরাসরি কারণ হিসেবে এল নিনোকে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ আপাতত নেই।
শীত কি তবে আগেই আসছে? হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, এখনই এমন কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই। বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা দুর্বল হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। বাড়তে পারে রোদের তাপ, ফলে দিনের তাপমাত্রাও ফের কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়ার গল্প এখানেই শেষ নয়। মায়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া আর একটি নিম্নচাপ আগামী কয়েক দিনে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোতে পারে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর প্রভাবে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে ফের বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের শেষের এই ঠান্ডা দেখে এখনই শীতের আগমন ঘোষণা করছে না আবহাওয়া দফতর। আপাতত এটিকে সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থার জেরে তৈরি হওয়া সাময়িক পারদ পতন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।