The NewsNest Desk: মাঝআকাশে আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি। দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে শুরু হল তীব্র সংঘর্ষ। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে মূল পাইলটের উপর হামলা করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে বিমানটি জরুরি অবতরণের জন্য সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত যাত্রী ও বিমানকর্মীদের হস্তক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে উড়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি আচমকাই বিপজ্জনক ভাবে উচ্চতা হারাতে শুরু করে। বিমানটির জরুরি সংকেতও সক্রিয় হয়। প্রথমে সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠানো হলেও পরে সম্ভাব্য বিমান দখলের সংকেত পাঠানো হয়। এরপর বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানের সহ-পাইলটই মূল পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। ওই সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলার সঠিক উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে খতিয়ে দেখছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বিমানে থাকা যাত্রীদের বর্ণনায় আতঙ্কের ছবিও উঠে এসেছে। এক যাত্রীর পরিবারের সদস্যের দাবি, বিমানের ভিতরে চিৎকার শোনা যায় এবং একজন পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ছবিটির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এরপর কয়েক জন যাত্রী এবং বিমানকর্মী ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন বলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিমানটি নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুই পাইলটই আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিমানের যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই। ঘটনার খবর পেয়ে ইসরাইলের বিমানবাহিনীও যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায় বলে জানা গিয়েছে। প্রথম দিকে বিমানটি ছিনতাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানায়, ঘটনাটি প্রচলিত অর্থে বিমান ছিনতাই হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবে হামলার উদ্দেশ্য এবং কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
দুবাই-তেল আবিব রুটে নিয়মিত বিমান চলাচল করে। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর এই বিমানপথ চালু হয়। এবার মাঝআকাশের এই ঘটনায় সেই রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।