CJP gives Gyanesh Kumar 48-hour ultimatum, threatens nationwide protest

CJP: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি, না হলে ‘জন্তর মন্তর ২.০’-র হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ’ দীপকের

নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এমনকি দিল্লির জন্তর মন্তরে ফের বড়সড় বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই CJP-র এই ঘোষণা। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এমন আপত্তি নথিভুক্ত হয়েছিল।

এই প্রতিবেদনকে সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে CJP। সংগঠনের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন তা প্রকাশ করা। পাশাপাশি আসন্ন সমস্ত নির্বাচন স্থগিত রেখে এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনের কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও তোলা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কাও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ফর্ম ৬ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং তরুণ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়েও সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন তোলে CJP। সংগঠনের দাবি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-র মতো কারণ দেখিয়ে বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং পরে আদালতের নির্দেশের পর বহু নাম পুনরায় যুক্ত হয়। ভোটার তালিকার সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আশুতোষ রঙ্কা।

অন্যদিকে, CJP-র পক্ষ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকলে দলগুলিকে তা নিয়ে অবস্থান নিতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলে ‘জন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিই এখন CJP-র প্রধান ঘোষণা।