সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল, লেবানন, জর্ডন, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হঠাৎ ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এর মধ্যেই শনিবার রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদের আকাশে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যাওয়ার পর সাময়িক সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সৌদির জ্বালানি পরিকাঠামোতেও। ইরাক থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের একাধিক পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি এবং বাব আল-মানদেব ঘিরে নিয়ন্ত্রণের ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সৌদি-হুতি সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।