The NewsNest Desk : দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পথে নামা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৭০০-র বেশি মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, ছাত্র ও সমাজকর্মীরাও রয়েছেন।
এই আবহেই ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন কক্রোচ জনতা পার্টি বা CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে আবার রাস্তায় নামার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের জায়গা সংকুচিত করা হচ্ছে, অথচ ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নগুলির উত্তর মিলছে না।
দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়েও শুক্রবার আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে দীপকের দল। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে আন্দোলনের আগে এক্স-এ দেওয়া বার্তায় দীপকে প্রশ্ন তোলেন, শিবাজি পার্কে বিক্ষোভকে যদি সাধারণ মানুষের অসুবিধা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে দিল্লিতে মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কেন?
দীপকের নেতৃত্বাধীন CJP-র আন্দোলনের মূল দাবি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিবাদেই এই আন্দোলন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল এবং যন্তর মন্তর এলাকায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার খবরও সামনে এসেছে।
দিল্লিতে আটক হওয়ার ঘটনা নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আপ নেতা অতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা এবং AISA-র নেত্রী নেহা বোরার নামও উঠে এসেছে। SFI ও DYFI-এর কর্মীদের আটক করার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দীপকের আন্দোলন অবশ্য একেবারে নতুন নয়। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়েও দিল্লির যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে তাঁর নেতৃত্বে ধারাবাহিক বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময় NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার অনিয়ম এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল। পরে সংসদের দিকে মিছিল এগোনোর চেষ্টা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছিল।
এবার নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে আন্দোলনে ফের সামনে এসেছেন দীপকে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—সরকারের কাছে প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। অন্যদিকে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তি সামনে এসেছে।
ফলে শুক্রবারের দিল্লি শুধু একটি বিক্ষোভের দিন নয়। ভোটার তালিকা, SIR, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রতিবাদের অধিকার—এই চারটি প্রশ্নকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।