The NewsNest Desk : গান্ধী জয়ন্তীর দিনই নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ডাক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ২ অক্টোবর দিল্লির জंतर-মন্তর থেকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক—একাধিক জায়গায় আলাদা আলাদা সংগঠন ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছে। মূল অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ।
তবে এই কর্মসূচিগুলি কোনও একটি কেন্দ্রীয় সংগঠনের ডাকা একক দেশব্যাপী আন্দোলন নয়। INDIA জোট, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজের কর্মী এবং Cockroach Janta Party বা CJP আলাদা আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের দাবির মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণ, SIR প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের জবাবদিহি রয়েছে।
দিল্লিতে সমাজকর্মী, ছাত্রনেতা এবং বিরোধী শিবিরের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ২ অক্টোবর সকাল ১১টায় জंतर-মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, RJD সাংসদ মনোজ ঝা এবং AISA-র সভাপতি নেহা বোরার মতো ব্যক্তিত্ব। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। জंतर-মন্তরের আশপাশে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের তরফে সম্ভাব্য ভিড় নিয়ে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
মুম্বইয়েও পরিস্থিতি আলাদা নয়। Cockroach Janta Party-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ২ অক্টোবর শিবাজি পার্কে ‘Jail Bharo Andolan’-এর ডাক দিয়েছেন। পুলিশের তরফে ওই জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশ এবং শিবাজি পার্কের ‘সাইলেন্স জোন’ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে সেখানে অনুমতির বিষয়টি জটিল। আয়োজকদের বিকল্প জায়গা খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। CJP-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুম্বইয়ের পর গোয়া, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসূচি হতে পারে। পরে দিল্লির জंतर-মন্তরেও বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলটি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিল এবং SIR নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবিও তুলেছে।
অন্য দিকে, INDIA জোটও ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘Save Democracy’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৯টি বিরোধী দলের বৈঠকের পর এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা স্তরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে প্রতিবাদ হবে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করার কর্মসূচিও রয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা এবং SIR সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এই আন্দোলনের রাজনৈতিক আবহ আরও তীব্র হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফের জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, SIR-এর সময় ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। মমতার দাবি, তৃণমূল যে সব বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছিল, সেখানেই তুলনামূলক ভাবে বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেছেন, কয়েকটি কেন্দ্রে SIR-এ বাদ পড়া, ‘logical discrepancy’ বা নিষ্পত্তিহীন মামলার সংখ্যা বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। তিনি প্রায় ১০০টি কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্রের CCTV ফুটেজ প্রকাশের দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু Form 17C-তে উল্লেখ থাকা EVM-এর তথ্যের সঙ্গে গণনাকেন্দ্রে থাকা মেশিনের তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে।
তবে বিরোধীদের এই অভিযোগগুলিকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে গান্ধী জয়ন্তীতে যে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নয়—SIR, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।