জেরুজালেম: গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও একই ধরনের অভিযান চালানোর আহ্বান জানালেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। রবিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিম তীরে ‘যুদ্ধ’ শুরু করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মোটরিচ পশ্চিম তীরকে বাইবেলের পরিভাষায় ‘জুডিয়া অ্যান্ড সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের উচিত সেখানে যুদ্ধ শুরু করা এবং ‘গাজায় যা করা হয়েছে, তা-ই করা’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে। তিনি ওই কর্তৃপক্ষকে ‘সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ’ বলেও উল্লেখ করেন।
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্মোটরিচ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীকে এমনভাবে অভিযান চালাতে হবে যাতে সেখানে ‘সন্ত্রাসী পরিকাঠামো’ না থাকে। তাঁর বক্তব্য, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে, পশ্চিম তীরেও সেভাবেই ‘সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ’ নির্মূল করতে হবে।
আরও পড়ুন : panda diplomacy কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলাতে যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া পান্ডা পাঠাল চীন
স্মোটরিচের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অগস্ট পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ১,৬০০-র বেশি বসতি স্থাপনকারী-সম্পর্কিত হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। দিনে গড়ে ৬.৭টি হামলার এই হার ২০২৫ সালের দৈনিক গড়ের চেয়েও বেশি। এই হামলাগুলিতে ২৭৫টি ফিলিস্তিনি জনপদ প্রভাবিত হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের আগের হিসাবেও দেখা গিয়েছিল, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের জেরে ২,৩০০-র বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ১,৩৮০-র বেশি বসতি-সংক্রান্ত হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছিল।
আরও পড়ুন : হরমুজে মার্কিন Remus 600 ড্রোন দখলের দাবি ইরানের, ফুটেজ প্রকাশ IRGC-র
স্মোটরিচের মন্তব্যের পর ফিলিস্তিনি বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ করেছে, তাঁর বক্তব্য ইসরায়েলি সরকারের এমন নীতির অংশ, যার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুতি, বসতি সম্প্রসারণ, জমি দখল এবং জোর করে সংযুক্তিকরণের প্রচেষ্টা রয়েছে।
এরই মধ্যে সুক্কট উৎসব উপলক্ষে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসরায়েল। এই নিষেধাজ্ঞা ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। একই দিনে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বহু ইসরায়েলি প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মরক্কো গেট দিয়ে তাঁরা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেন।
পশ্চিম তীর নিয়ে স্মোটরিচের সর্বশেষ মন্তব্যে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, গাজা যুদ্ধের সামরিক কৌশল অধিকৃত পশ্চিম তীরেও প্রয়োগ করা হতে পারে। বিশ্লেষক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা তাঁর বক্তব্যকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।