BRICS nations urge ‘restraint’ in Middle East, smooth flow of global trade

BRICS Summit 2026: পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের বার্তা ব্রিকসের, প্যালেস্টাইনবাসীদের উচ্ছেদের বিরোধিতা

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের আবহেই ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিল ব্রিকস। নয়াদিল্লিতে দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার সর্বসম্মতিক্রমে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করল ১১ সদস্যের এই জোট। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সদস্য দেশগুলিকে একযোগে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ঘোষণায় ইসরাইলের হাতে প্যালেস্টাইনবাসীদের জোর করে উচ্ছেদের তীব্র বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক চরিত্র বা জনবিন্যাস বদলেরও বিরোধিতা করা হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের হিংসা বন্ধের আহ্বানের পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-কে সমর্থন এবং প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্রসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে জোট।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ায় বেসামরিক পরিকাঠামো এবং পরমাণু স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে ব্রিকস। বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত রয়েছেন। শুক্রবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন মোদী।

ঘোষণাপত্রের খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলেছিল। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অবস্থানের পার্থক্যই ছিল ঐক্যমতে পৌঁছনোর অন্যতম বড় বাধা। গত মে মাসে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও দুই দেশের মতবিরোধের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এ বার কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম না করে একতরফা যুদ্ধের বিরোধিতা করে অবস্থান জানাতে সম্মত হয়েছে সদস্য দেশগুলি। ব্রিকস ঐক্যমতভিত্তিক জোট হওয়ায় কোনও একটি সদস্য দেশও চূড়ান্ত ঘোষণায় আপত্তি জানালে তা আটকে যেতে পারে। ফলে সম্প্রসারিত জোটে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় ঐক্যমত ভারতের সভাপতিত্বের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বাড়াতে ব্রিকস বিশ্বব্যাঙ্ক, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবিও জানিয়ে আসছে। এই জোটে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি রয়েছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই জোটভুক্ত দেশগুলির হাতে।