অসলো, ২৪ সেপ্টেম্বর: ফিলিস্তিনিদের জন্য অতিরিক্ত ১৩.১৭ মিলিয়ন ডলার বা ১২৫ মিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই অর্থ রাষ্ট্রসংঘ ও বিশ্বব্যাঙ্কের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এর একটি অংশ ফিলিস্তিনি সরকারি খাতের বাজেট সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে নরওয়ের এই অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা এল। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্ত এইডে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন এখন আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জরুরি পরিষেবা এবং সরকারি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নরওয়ে।
আরও পড়ুন : From Death to Political Ticket: নাকের বদলে নরুন, আর প্রাণের বদলে টিকিট
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই অর্থের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। ২০২৬ সালে নরওয়ে ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। নতুন অর্থ সেই সহায়তার অতিরিক্ত অংশ।
একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনেরও সমালোচনা করেছেন নরওয়ের বিদেশমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে যে অবস্থান নরওয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ে আসছে, নতুন বিবৃতিতেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে নরওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলির সমন্বয়কারী গোষ্ঠীর নেতৃত্বও দিচ্ছে দেশটি। ফলে ফিলিস্তিনে নরওয়ের সহায়তা শুধু মানবিক সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরকারি খাতের আর্থিক সহায়তাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন : Iran US War: ফের আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ হলে তা ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়াতে পারে, হুঁশিয়ারি ইরানের
নরওয়ের এই নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ ও বিশ্বব্যাঙ্কের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছনোর ফলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সরকারি পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখাই এখন নরওয়ের ঘোষিত উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।