Amarinder Singh voices frustration with BJP ahead of Punjab polls, but rules out immediate exit

Amarinder ‘আমার মতামতই চাওয়া হয় না’, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ অমরিন্দরের! ফের কি কংগ্রেসে ‘ক্যাপ্টেন’?

পঞ্জাবের ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে অমরিন্দর সিংহের সম্পর্ক নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও পঞ্জাবের ভোটের বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না—এমনই অভিযোগ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এখনই বিজেপি ছাড়ার কোনও সিদ্ধান্ত তাঁর নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমরিন্দর বলেন, পঞ্জাবের রাজনীতিতে তাঁর প্রায় ছয় দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে যাঁরা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন, তাঁদেরও রাজ্যের বিভিন্ন অস্থির সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে বিজেপি নেতৃত্ব কাজে লাগাবে এবং তাঁদের মতামত জানতে চাইবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

বিজেপি ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য সরাসরি দলত্যাগের কথা বলেননি অমরিন্দর। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অবস্থান সময়ের সঙ্গে বদলায়। কিন্তু এই মুহূর্তে বিজেপি ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না। একই সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গত কয়েক বছরে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে কংগ্রেসে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জল্পনা। আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে অমরিন্দর আবার কংগ্রেসে ফিরতে পারেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের খবর নেই। পঞ্জাবের দায়িত্ব পাওয়া কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলটও জানিয়েছেন, অমরিন্দরকে দলে ফেরানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

আরও পড়ুন : Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতো’ বিচারের আর্জি

২০২১ সালে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন অমরিন্দর। ওই বছরের শেষ দিকে নিজের দল পঞ্জাব লোক কংগ্রেস গড়েন তিনি। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটে লড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দল কোনও আসন জিততে পারেনি। অমরিন্দরও নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি পটিয়ালায় পরাজিত হন।

এর পর পঞ্জাবে নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজেপি একাধিক প্রাক্তন কংগ্রেস নেতাকে দলে নেয়। অমরিন্দর ছাড়াও সুনীল জাখর, মনপ্রীত বাদল, বলবীর সিংহ সিধু-সহ বেশ কয়েক জন কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতাকে বিজেপিতে আনা হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পটিয়ালা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অমরিন্দরের স্ত্রী প্রণীত কউর। কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়।

এ বার ফের পঞ্জাবের ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিজেপি শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে বলেও খবর। আর এখানেই অমরিন্দরের পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাদল পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ফলে বিজেপির বর্তমান কৌশল এবং পঞ্জাব নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে নিজের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ—দুই বিষয়ই অমরিন্দরের সাম্প্রতিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে আসছে।

আরও পড়ুন : Seema Khanna: ভোটার সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ! সীমা খান্নার ‘সীমা’ নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই

তবে কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও এখনও পর্যন্ত অমরিন্দর নিজে এমন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। বরং তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিজেপির প্রতি অসন্তোষের পাশাপাশি আপাতত দলেই থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ‘ক্যাপ্টেন’ শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জল্পনা আপাতত বহাল।