ইসলামাবাদ, ১৯ সেপ্টেম্বর: সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আবহে সেই চুক্তি নিয়েই বাড়ছে উদ্বেগ। বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তানকে সামরিক ভাবে পাশে দাঁড়াতে হতে পারে। তাতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ইসলামাবাদের।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সৌদির ভূখণ্ডে কোনও হামলা হলে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করবে বলে জানা যায়। পরে তুরস্কও এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়। তিন দেশের এই সমঝোতাকে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বলা হচ্ছে। চুক্তিতে একটি দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Hajj 2027: ২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না কারা? ১৫ বছরের কম শিশু-সহ তালিকায় কারা
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি বেড়েছে। ইরান ও ইসরাইলের সংঘাত এবং ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা নতুন করে পাকিস্তানের সামনে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক অভিযান বাড়লে চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকার মতে, পাকিস্তান হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত হলে তার বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তানের শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সিনেটে বিরোধী দলের নেতা রাজা নাসির আব্বাসও চুক্তির শর্ত নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানে অস্থিরতা ও ধর্মীয় বিভাজন বাড়তে পারে। অন্যদিকে এক পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব আপাতত চুক্তি সক্রিয় করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যেতে চায় বলে তাঁর মনে হয় না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত কোনও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: Tariffs: ভারত-চিনে ১০০% পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা, রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনে সই ট্রাম্পের