জেরুসালেম: আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন রয়েছে। তার ঠিক আগে দেশটির উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতারা আল-আকসা মসজিদের বর্তমান অবস্থা বদলানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বারবার আল-আকসা চত্বরে হানা দিচ্ছেন। তাঁর এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে শঙ্কা আরও বেড়েছে। তিনি আগেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, আল-আকসার জায়গায় ইহুদিদের মন্দির তৈরি করা হবে।
ইহুদি ইতিহাস অনুযায়ী, অতীতে দুটি মন্দির ধ্বংস হয়েছিল। বর্তমানে ‘টেম্পল মুভমেন্ট’ বা উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠন—যেমন এলাদ, অতেরেত কোহানিম এবং টেম্পল মাউন্ট ফেইথফুল ফাউন্ডেশন—দাবি করছে যে আল-আকসার বর্তমান স্থানেই ছিল দ্বিতীয় মন্দির। এই গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ খননকার্য চালানো, মুসলিমদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি এবং পতাকা মার্চের মতো নানা আগ্রাসী পদক্ষেপ চালিয়ে আসছে। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী এই উগ্রপন্থীদের প্ররোচনায় নীরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুসলমানদের কাছে আল-আকসা হলো প্রথম কিবলা এবং তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ১৯৬৯ সালে আল-আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার পর থেকেই এর সুরক্ষায় ওআইসি কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে মুসলিম বিশ্ব অতীতে যতটা জোরালো প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছিল, বর্তমান গাজা পরিস্থিতি ও তুরস্কের দৃঢ় অবস্থানের ফলে এখন এ বিষয়ে সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি উগ্রপন্থীদের এই স্বপ্ন রুখতে মুসলিম দেশগুলোকে এখনই ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আল-আকসার অস্তিত্ব নিয়েই বড় সংকট তৈরি হতে পারে।