নন্দীগ্রাম, ১৮ সেপ্টেম্বর: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে শুক্রবার দিনভর চলা নাটকের পর সন্ধ্যায় আরও এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন, তাঁর দল নন্দীগ্রামে লড়বে না; বরং কংগ্রেসকে “সিস্টার পার্টি” হিসেবে সমর্থন করছে এবং ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একসঙ্গে লড়াই করবে।
এই ঘোষণার ঠিক ঘণ্টাখানেক–কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটি খুনের ঘটনায় মিলন প্রধানের নাম জড়িয়ে ছিল; প্রায় দু’দশকের পুরনো সেই মামলাতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, মামলাটি ভূমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত।
কংগ্রেস নেতৃত্ব এই গ্রেফতারিকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে অভিহিত করেছে। দলের দাবি, এটি ভোটের লড়াই থেকে প্রধান বিরোধী প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, বিরোধীদের ভয় পেয়েই বিজেপি-শিবিরের এমন “কার্যকলাপ”।
ঘটনার সময়ক্রম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন ঘোষণার ঠিক পরপরই গ্রেফতার হওয়াটা অনেকের কাছে “কাকতালীয়” মনে হচ্ছে না; বরং উপনির্বাচনের সমীকরণ বদলে দেওয়ার কৌশল হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, তৃণমূল প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর কংগ্রেসকে সমর্থন জানানোর ফলে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল, গ্রেফতারির ফলে তাতে ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শনিবার ধৃত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে হলদিয়া আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মনোনয়ন জমার শেষ দিনের ঠিক আগে এই গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: কংগ্রেস কি এখনও উপনির্বাচনে থাকছে, নাকি প্রার্থী সরিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?