রোম, ২৮ সেপ্টেম্বর: রেস্তরাঁয় গিয়ে খাবারের মেনু হাতে পেয়েছেন, অথচ কোথাও দাম লেখা নেই! এমন অভিজ্ঞতাই হয়েছে এক মহিলার। তবে পাশে বসা স্বামীর মেনুতে আবার প্রতিটি খাবারের দাম স্পষ্টভাবে লেখা। ইতালির এক বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় স্বামী-স্ত্রীর আলাদা মেনু ঘিরে এমনই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন লিয়ানা নামে এক মহিলা। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নেটপাড়ায় আলোচনা।
লিয়ানা তাঁর স্বামীর সঙ্গে ইতালির লেক কোমোর গ্র্যান্ড হোটেল ত্রেমেজ্জো-তে গিয়েছিলেন। জন্মদিন উদ্যাপন করতে গিয়ে মেনু হাতে নিয়েই তাঁর নজরে আসে বিষয়টি। নিজের মেনুতে কোনও খাবারের দাম দেখতে না পেয়ে প্রথমে কিছুটা অবাক হন তিনি। তাঁর স্বামী মেনুটি দেখে জানান, তাঁর হাতে থাকা মেনুতে কিন্তু খাবারের দাম যথেষ্ট স্পষ্ট।
আরও পড়ুন : Fetal heart health: গর্ভস্থ ভ্রূণের হৃদযন্ত্রে সমস্যা নেই তো? জেনে নিন কোন পরীক্ষায় জানা যায়
এর পর দু’টি মেনু পাশাপাশি রেখে পার্থক্যটিও ভিডিয়োয় দেখান লিয়ানা। তাঁর দাবি, এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে রোমের একটি তিন-মিশেলিন-তারকা রেস্তরাঁতেও নাকি একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁদের। সেখানেও তাঁর মেনুতে দাম ছিল না, অথচ স্বামীর মেনুতে দাম লেখা ছিল।
প্রথমে অবশ্য বিষয়টি বেশ উপভোগই করেছিলেন লিয়ানা। দাম না দেখে পছন্দের খাবার বেছে নেওয়ার ব্যাপারটি তাঁর কাছে বেশ স্বস্তিদায়ক বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে আসে আসল চমক—রেস্তরাঁর বিল।
লিয়ানা পরে জানান, তাঁরা এমন দু’টি পানীয় অর্ডার করেছিলেন যার দাম ছিল মোট ১২০ ডলার। জন্মদিনের একটি বিশেষ ডেজার্টের দাম ছিল ১৪০ ডলার। টিপ-সহ শেষ পর্যন্ত তাঁদের মোট বিল দাঁড়ায় ৯২৬.৮৬ ডলার। আগে থেকে প্রায় ৫০০ ডলারের মতো খরচ হবে বলে অনুমান করেছিলেন তিনি।
এই বিল দেখার পর অবশ্য তাঁর মনে হয়, খাবারের দাম জানা থাকলে হয়তো অর্ডার করার সময় আরও সতর্ক হতে পারতেন। তাঁর মতে, খাবারের মধ্যে বিফ ওয়েলিংটন ছাড়া বাকি কিছু তাঁকে খুব অসাধারণ বলেও মনে হয়নি।
তবে ঘটনাটি নিয়ে লিয়ানার মত কিছুটা দ্বৈত। একদিকে তিনি বলেছেন, স্বামী যখন খাবারের দাম নিয়ে ভাবছিলেন, তখন তিনি নিজের জন্মদিনের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, দাম না জানিয়ে মেনু দেওয়ার এই ব্যবস্থা নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
আরও পড়ুন : Pheromone Maxxing: গায়ের দুর্গন্ধেই প্রেম! ‘ সত্যিই কি ঘামের গন্ধে আকর্ষণ বাড়ে?
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, খাবারের দাম গোপন রাখার এমন ব্যবস্থা আদৌ কতটা যুক্তিসঙ্গত। আবার কেউ কেউ বলেছেন, দাম না জেনে খাবার অর্ডার করার অভিজ্ঞতাও নাকি বেশ মজার।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বামী ও স্ত্রীর জন্য আলাদা মেনু দেওয়া ইতালির সব রেস্তরাঁর সাধারণ নিয়ম নয়। এই ঘটনাটি নির্দিষ্ট বিলাসবহুল রেস্তরাঁর অভিজ্ঞতা হিসেবেই সামনে এসেছে এবং পুরো বিষয়টি সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত লিয়ানার বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে।