Durga Puja 2026: Easy minimal makeup tips for a fresh, natural look

Durga Puja 2026: মিনিমাল মেকআপ! জেনে নিন কম মেকআপে ন্যাচারাল লুক পাওয়ার সহজ উপায়

The NewsNest Desk: মেকআপ মানেই একসময় ছিল নিখুঁত বেস, তীক্ষ্ণ কনট্যুর, গাঢ় আইলাইনার আর স্পষ্টভাবে আঁকা ভ্রু। কিন্তু সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলেছে। এখন মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ঢেকে দেওয়ার বদলে সেগুলোকেই আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। সেই পরিবর্তনেরই অন্যতম ফল মিনিমাল মেকআপ। হালকা বেস, সামান্য রঙের ছোঁয়া, পরিচ্ছন্ন আই-ব্রো আর ঠোঁটে একটু গ্লস—এই কয়েকটি উপাদানেই তৈরি হতে পারে পরিপাটি, সতেজ এবং স্বাভাবিক লুক। সেলেব্রিটি থেকে শুরু করে র‌্যাম্প, সর্বত্রই এই ন্যাচারাল মেকআপের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, খুব বেশি প্রোডাক্ট বা ধাপের প্রয়োজন হয় না। ফলে মেকআপ করতে সময় কম লাগে এবং অতিরিক্ত মেকআপের কারণে লুক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

শুরু হোক হালকা বেস দিয়ে

মিনিমাল মেকআপের মূল কথা হল—ত্বককে পুরোপুরি ঢেকে ফেলা নয়। মুখে সামান্য ইম্পারফেকশন থাকলে থাকুক। বরং সেই স্বাভাবিকতাই লুককে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। এক্ষেত্রে শিয়ার অথবা মিডিয়াম কভারেজের লিকুইড ফাউন্ডেশন বেছে নেওয়া ভাল। নিজের স্কিনটোনের সঙ্গে যতটা সম্ভব কাছাকাছি শেড ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় কপাল, চুলের গোড়া এবং গলার অংশেও ভালভাবে ব্লেন্ড করতে হবে।

ত্বকে হালকা গ্লো আনতে চাইলে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অল্প লিকুইড বা ক্রিম হাইলাইটার মিশিয়ে নেওয়া যায়। হালকা কভারেজের ফাউন্ডেশন না থাকলে হাই-কভারেজ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সামান্য ময়শ্চারাইজ়ার বা ফেশিয়াল অয়েল মিশিয়েও তা ব্যবহার করা সম্ভব। মিনিমাল লুকে কনসিলার বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ কোনও জায়গায় প্রয়োজন হলে সেখানে অল্প ফাউন্ডেশন দিয়েই কাজ চালানো যায়। একইভাবে পুরো মুখ পাউডার দিয়ে সেট করারও দরকার নেই। প্রাইমার ব্যবহার না করলে শুধু আন্ডারআই, নাকের দু’পাশ এবং থুতনির মতো প্রয়োজনীয় জায়গায় অল্প পাউডার ব্যবহার করুন।

কনট্যুর কম, স্বাভাবিকতাই বেশি

মিনিমাল মেকআপে ব্রনজ়ার ও কনট্যুরিং করা গেলেও তার ব্যবহার হতে হবে খুব মেপে। অতিরিক্ত কনট্যুর মুখের স্বাভাবিক লুক নষ্ট করে দিতে পারে।আই-ব্রোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। ভ্রু একেবারে নতুন করে আঁকার বদলে ফাঁকা জায়গাগুলি হালকা হাতে পূরণ করুন। খুব সরু বা অতিরিক্ত নিখুঁত শেপের বদলে স্বাভাবিক, কিছুটা বুশি আই-ব্রো এখন বেশি মানানসই। আই-ব্রো সাজানোর পর মাসকারা টিসুতে সামান্য চেপে নিয়ে ভ্রুতে উপর দিকে এবং পিছনের দিকে ব্রাশ করলে তা দীর্ঘক্ষণ সেট থাকবে।

চোখ, গাল আর ঠোঁটে একই রঙের ছোঁয়া

মিনিমাল মেকআপে রঙের ব্যবহার যত কম রাখা যায়, তত ভাল। চাইলে যে ব্লাশ বা ব্রনজ়ার ব্যবহার করছেন, তার সামান্য অংশ আঙুলে নিয়ে চোখের পাতায় হালকা করে ব্লেন্ড করতে পারেন। একই শেড চোখের নীচে কিংবা ঠোঁটেও ব্যবহার করা যায়। এভাবে একই রঙের বিভিন্ন মাত্রা ব্যবহার করলে একটি সুন্দর মোনোক্রোম্যাটিক লুক তৈরি হয়। পাউডার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেও ঠোঁটের উপর সামান্য গ্লস দিলে লুকটি আরও নরম ও সতেজ দেখাবে। যাঁরা একেবারে নুড লুক পছন্দ করেন না, তাঁরা ভিন্টেজ রোজ়, মভ বা হালকা ব্রাউন শেড ব্যবহার করতে পারেন। চোখ ও ঠোঁটে একই ধরনের শেড রাখলে লুকটি বেশ পরিপাটি লাগে। তবে চোখ এবং ঠোঁট—দুটির মধ্যে কোনও একটি অংশকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইলে অন্য অংশটি হালকা রাখাই ভাল। যেমন, নুড আই মেকআপের সঙ্গে লাল বা হট পিঙ্ক লিপস একটি চিরকালীন কম্বিনেশন। আবার চোখে গাঢ় লাইনার বা রঙিন শ্যাডো থাকলে ঠোঁটে শুধু হালকা শেড কিংবা একেবারেই কোনও রঙ না রাখলেও ভাল লাগে।

মিনিমাল মানেই একঘেয়ে নয়

কম মেকআপ মানেই যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই, তা কিন্তু নয়। বরং নুড বা হালকা বেসের সঙ্গে ছোট কোনও স্টেটমেন্ট আইলাইনার পুরো লুকটাই বদলে দিতে পারে। ফ্লোটিং লাইনার, গ্রাফিক ক্যাট আই কিংবা জিওমেট্রিক লাইনার—বিভিন্ন ধরনের সহজ ডিজ়াইন চেষ্টা করা যায়। খুব জটিল মোটিফের প্রয়োজন নেই। চোখের পাতায় একটি ছোট স্ট্রোক, ত্রিভুজ, ‘V’ আকৃতি কিংবা কয়েকটি ডটও যথেষ্ট।

তবে একসঙ্গে চোখের সব জায়গায় ডিজ়াইন না করে একটি অংশকে বেছে নেওয়াই ভাল। সঙ্গে কয়েক পরত মাসকারা থাকলে চোখ আরও উজ্জ্বল দেখাবে। শেষ পর্যন্ত মিনিমাল মেকআপের আসল সৌন্দর্য হল নিজের চেহারাকে বদলে ফেলা নয়, বরং নিজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যকে সামনে আনা। সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা বা সোশ্যাল মিডিয়ার চাপের কাছে নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন নেই। কম মেকআপের এই ট্রেন্ড তাই শুধু সাজের ধরন নয়, নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে গ্রহণ করারও একটি বার্তা।