ইসলামাবাদ, ২৬ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। শনিবার ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দা এলাকায় আমান মেলার কাছে রাস্তার ধারের একটি পুলিশ চেকপোস্টে এই হামলা হয় বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
ডেরা ইসমাইল খানের পুলিশ প্রধান সফদর বালোচ জানান, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তাকর্মী এবং পথচারী। আহতদের মধ্যে পুলিশকর্মী, শুল্ক দফতরের কর্মী এবং দু’জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।
আরও পড়ুন : Kelkit বিশাল হাঁড়িতে ৬৮৪০ লিটার শিম রান্না, গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়ল তুরস্কের কেলকিট
হামলার দায় এখনও কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক হামলার ধরন বিবেচনায় পাকিস্তান তালিবান বা টিটিপির দিকে সন্দেহের আঙুল উঠছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলি সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
বিস্ফোরণের পর দারাজিন্দা রেসকিউ ১১২২-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে টিটিপি এবং বালুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) বিরুদ্ধে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন : CNN : সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দিন, ট্রাম্পকে আদালতের নির্দেশ
টিটিপি সদস্যদের আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে আফগান তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
সাম্প্রতিক হামলার আগে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তেও উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আফগান তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এর আগে আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে চিন, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মধ্যেই নতুন করে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।