ইস্তানবুল, ২৪ সেপ্টেম্বর: সকালের জলখাবারে টোস্টের সঙ্গে গরম বেকড বিনস খাওয়ার চল রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু সেই বেকড বিনস যদি রান্না হয় একটি বিশাল হাঁড়িতে, আর তার পরিমাণ হয় প্রায় ৬,৮৪০ লিটার, তা হলে সেই আয়োজন যে নজর কাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। এমনই নজরকাড়া আয়োজন করে এ বার গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তুরস্কের কেলকিট শহর।
গত ২২ অগস্ট কেলকিটে একটি বিশাল পাত্রে একসঙ্গে রান্না করা হয় ৬,৮৪০ লিটার বেকড বিনস। এই পরিমাণ প্রায় ১,৮০৭ মার্কিন গ্যালনের সমান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তরফে আয়োজনটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বেকড বিনস একসঙ্গে রান্নার রেকর্ড হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্থানীয় শিমেই নতুন রেকর্ড
এই গিনেস রেকর্ড তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কেলকিট অঞ্চলের বিশেষ ধরনের স্থানীয় শিম। স্থানীয় ভাবে এই শিম ‘কেলকিট শেকের ফাসুলিয়েসি’ নামে পরিচিত। কেলকিট সমভূমিতে এই শিমের চাষ হয়। কিছুটা বাঁকানো আকৃতি এবং হালকা বেগুনি ছোপ রয়েছে এই শিমের গায়ে।
স্থানীয় কৃষিপণ্যের পরিচিতি আরও বাড়াতেই এই শিমকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল শুধু Guinness World Record তৈরি করা নয়, কেলকিটের কৃষি ঐতিহ্য এবং স্থানীয় উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা।
কেলকিট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কেলকিট পুরসভা এবং গুমুশানে গভর্নরেটের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশাল পাত্রে রান্নার পাশাপাশি গোটা আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ ছিল।
ভেঙে গেল পুরনো রেকর্ড
কেলকিটের এই বেকড বিনস রেকর্ড তৈরি হওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বেকড বিনস রান্নার রেকর্ড ছিল ম্যাসিডোনিয়ার দখলে। ২০১২ সালে দেশটির সারসিয়েভো গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে প্রায় ৫,৬০০ লিটার বেকড বিনস রান্না করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেকর্ডই ছিল অক্ষত। এ বার কেলকিটে ৬,৮৪০ লিটার বেকড বিনস রান্না করে সেই রেকর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ১,২৪০ লিটার বেশি বেকড বিনস রান্না হয়েছে এ বার।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম মেনে রান্না করা খাবারের পরিমাণ যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় মাপজোক এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর কেলকিটের আয়োজনকে নতুন বিশ্বরেকর্ড হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কৃষকদের সম্মান জানাতেই আয়োজন
এই Kelkit Guinness Record-এর পিছনে স্থানীয় কৃষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেলকিটের বিশেষ শিমের চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের পরিশ্রমকে সামনে আনা এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য ও পরিচিতি বাড়ানো ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের বক্তব্য, কেলকিটের স্থানীয় শিম শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এই অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যেরও অংশ। তাই এত বড় পরিমাণে সেই শিম রান্না করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বহু মানুষের মিলিত উদ্যোগ
এই তুরস্কের গিনেস বিশ্বরেকর্ড তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বহু মানুষ। স্থানীয় কৃষক থেকে শুরু করে রাঁধুনি, প্রকৌশলী, খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং পৃষ্ঠপোষকেরা একসঙ্গে কাজ করেছেন।
এত বড় পরিমাণ খাবার রান্নার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশাল পাত্র, পর্যাপ্ত কাঁচামাল এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। রান্নার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা এবং গিনেসের নিয়ম মেনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই Guinness World Record কেলকিট এবং গোটা গুমুশানে অঞ্চলের কাছে গর্বের বিষয়। তাঁদের আশা, বিশ্বরেকর্ডের মাধ্যমে কেলকিটের স্থানীয় শিম, কৃষি ঐতিহ্য এবং এই অঞ্চলের পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এই আয়োজন স্থানীয় ঐতিহ্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।