VHP claims 254 Hindus were killed in alleged attacks between January and August 2026 and seeks stringent action against extremist forces.

VHP : ৮ মাসে ২৫৪ হিন্দু নিহতের দাবি VHP-র, কড়া পদক্ষেপের দাবি

The NewsNest Desk : চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন হামলায় ২৫৪ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে দাবি করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন এই দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে চালানো হামলার ঘটনা নিয়ে দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে ২৫৪ জন নিহত হওয়ার পরিসংখ্যানটি ভিএইচপির প্রকাশিত তালিকা ও দাবির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

সুরেন্দ্র জৈন দাবি করেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে এমন হামলা ও হত্যার মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে পাঠানো উচিত। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে ভিএইচপি। জৈনের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে খুন বা হিংসার মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক বৈঠকে ভিএইচপি অভিযোগ করে, হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান, হিন্দু বসতি এবং হিন্দু মহিলাদের ঘিরে বিভিন্ন ধরনের হামলার ঘটনা বাড়ছে। ‘লাভ জিহাদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ধর্মান্তর বা প্রতারণার অভিযোগও তোলেন জৈন। এই অভিযোগগুলিও ভিএইচপির বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানানো হয়েছে। কিছু মাদ্রাসা ধর্মীয় উগ্রতা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন জৈন। পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকা, মসজিদ ও মাদ্রাসায় উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্যামেরা বসানো এবং সেই নজরদারি ব্যবস্থাকে স্থানীয় থানার সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ভিএইচপি।

এছাড়াও উগ্রপন্থা বা মৌলবাদে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের নজরদারির আওতায় আনার দাবি করেছে সংগঠনটি। মুসলিম সমাজের ‘শান্তিপ্রিয় নেতৃত্ব’-কেও জৈন হিংসা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জৈনের বক্তব্য, হিন্দুদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক দশকে সরকারগুলি হিংসা নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ করলেও পরিস্থিতি নিয়ে এখনও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে সাম্প্রতিক একটি বিমানঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন ভিএইচপি নেতা। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের পাইলট স্মিত মচ্ছরকে তাঁর সহ-পাইলট ককপিটে আক্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। এই ঘটনাকে জৈন উগ্রপন্থার বৃহত্তর আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করেন।

ভিএইচপি-র বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় স্থল, জল এবং আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। সংগঠনটি জানায়, হিন্দুদের সুরক্ষার দাবিতে সাংবিধানিক পথে পদক্ষেপের বিষয়েও তারা ভাবছে।

তবে সাংবাদিক বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগ, বিশেষ করে ২৫৪ জন নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা দাবিগুলির ক্ষেত্রে পৃথক সরকারি বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এগুলিকে ভিএইচপির দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।