একসময় বাংলার রাজনীতিতে দাপুটে সিপিএম নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন গৌতম দেব। অসুস্থতার কারণে এখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শে রয়েছেন গৃহবন্দি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সাম্প্রতিক নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর প্রায় ১২ বছর আগের একটি রাজনৈতিক মন্তব্য।
২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তৎকালীন সিপিএম নেতা গৌতম দেব তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে। তাঁর দাবি ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে সরকার ও দল চালিয়ে যেতে পারবেন না। একসময় তৃণমূল কংগ্রেস ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেন গৌতম।
শুধু সরকারের কাজকর্ম নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার, সম্পত্তি এবং তাঁর আঁকা ছবি বিক্রি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এই প্রাক্তন সিপিএম নেতা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে সে সময় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সেটিকে তখন কোনও ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা হয়নি। বরং বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবেই গৌতম দেবের মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছিল।
প্রায় এক যুগ পরে সেই বক্তব্য নতুন করে সামনে আসার কারণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের এই নির্দেশকে অবশ্য তৃণমূলের নাম বা জোড়াফুল প্রতীক স্থায়ী ভাবে বাতিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে আপাতত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। দলের নাম ও প্রতীকের দাবিদার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গৌতম দেবের ২০১৪ সালের সেই বক্তব্য। পুরনো রাজনৈতিক মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজছেন অনেকে। যদিও প্রায় ১২ বছর আগের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান দলীয় সঙ্কটের সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মতভেদ রয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশের জেরে গৌতম দেবের সেই পুরনো মন্তব্য যে ফের বঙ্গ রাজনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।