Prashant Bhushan questions government influence over constitutional institutions.

Prashant Bhushan: ‘জ্ঞানেশের ফাইল সরকারের কাছে, বিচারপতিদের ঠিকুজি-কুষ্ঠিও!’ বিস্ফোরক প্রশান্ত ভূষণ

The NewsNest Desk : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। এমনকি বিচারপতিদের ব্যক্তিগত তথ্যও সরকারের হাতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন প্রশ্ন তুলছে। এই আবহে কলকাতার সায়েন্স সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রশান্ত ভূষণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আনেন।

প্রশান্তের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনার, বিচারপতি, উপাচার্য, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এবং পুলিশপ্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে, যাঁরা সরকারের প্রভাবের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু কেন? কারণ সরকার একাধিক উপায় অবলম্বন করছে।” তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ করার চেষ্টা হয়, যাঁদের উপর সরকার প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কী দাবি প্রশান্তের?

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, তাঁর সম্পর্কে তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। তাঁকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই দাবির সমর্থনে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। ফলে প্রশান্তের মন্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশের মধ্যে আগে থেকেই অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত ভূষণের মন্তব্য বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশের দাবি সামনে আসে।

প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের মূল বিষয়ও হল, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকছে। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ ও অন্যান্য উপায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলির উপর সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এসআইআর বিতর্কের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও চলছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নথি এবং যাচাইযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশান্ত ভূষণের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এখন নজর, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় কি না।