CJP protest: Delhi Police detain over 100 protesters demanding CEC Gyanesh Kumar’s resignation.

CJP protest: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও দিল্লিতে ধরপাকড়! ১০০-র বেশি বিক্ষোভকারী আটক

The NewsNest Desk: সুপ্রিম কোর্টের বেআইনি আটক না করার নির্দেশের মধ্যেই দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে ১০০-র বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করল পুলিশ। রবিবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), এসএফআই, এআইএসএ এবং ক্রান্তিকারী যুব সংগঠনের সদস্যরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পথে নামেন। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর সময় পুলিশ জোর করে তাঁদের আটক করে। কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ বাসে তোলার ছবিও সামনে এসেছে।

রবিবার দিল্লির কনট প্লেস, রাজীব চক, আরকে আশ্রম মার্গ মেট্রো স্টেশন এবং বিজয় চক-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করে এগোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকায় তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দাও’ স্লোগান।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসও। তাঁর অভিযোগ, সাংসদ পরিচয় দেওয়ার পরেও দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে ব্রিটাস দাবি করেন, তাঁকে এবং অন্য এক ব্যক্তিকে জোর করে বাসের আসনে চেপে ধরা হয়েছিল। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্রিটাসের দাবি, পুলিশ কন্ট্রোল রুমের এক ডিসিপি ঘটনাটি দেখার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে একটি অটোয় তুলে দেওয়া হলেও কোনও পুলিশকর্মী তাঁর সঙ্গে যেতে রাজি হননি বলে অভিযোগ সিপিএম সাংসদের।

এদিকে, এসএফআইয়ের দাবি, তাদের কয়েকশো কর্মীকে আটক করে নয়াদিল্লির বদলে নাঙ্গলোইয়ের সূরজমল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, খাঁচার মতো পুলিশ ভ্যানের ভিতরে তাদের নেতাদের মারধর করা হয়। এসএফআই আরও দাবি করেছে, সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সূরজ এলামন এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অভিজিৎ মনিলাল-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনের সভাপতি নেহা বোরাকে বিজয় চক এলাকার কাছে আটক করা হয়। আরকে আশ্রম মার্গে দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। প্রকাশ্যে আসা ছবিতে দেখা গিয়েছে, নেহা ও অন্য আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের দিকে এগিয়ে গেলে কয়েকজনকে দৌড়তে দেখা যায়। এর পর তাঁদের আটক করা হয়।

দিল্লির সেক্রেড হার্ট চার্চের ভিকার ফাদার বিজু জেভিয়ারকেও পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মোবাইলে পুলিশি বলপ্রয়োগের ছবি তোলার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, কনট প্লেস মেট্রো স্টেশন ও গুরুদ্বার বাংলা সাহিবের কাছে তাদের বেশ কয়েকজন সমর্থককে আটক করা হয়েছে। সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো চিকিৎসক এবং অন্য আন্দোলনকারীদেরও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ দিন বিক্ষোভের অভিনব ছবি দেখা যায় নিগমবোধ ঘাটের কাছেও। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ক্রান্তিকারী যুব সংগঠনের সদস্যরা নৌকায় বসে পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদেরও দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা দিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবারও সিজেপির নেতাদের আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকা। বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর ইস্তফার দাবি জানাচ্ছে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলি। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের আটক করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। রবিবার আদালত শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইন মেনে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও দিল্লিতে ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।