The NewsNest Desk: সৌদির ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হাতে লাঠি, সামনে ড্রামের তালে তালে ছন্দবদ্ধ নাচ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, একদল প্রশিক্ষিত শিল্পীই বুঝি ঐতিহ্যবাহী নাচ পরিবেশন করছেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই বদলে যাবে সেই ধারণা। কারণ নাচের মঞ্চে থাকা ‘শিল্পীরা’ আসলে মানুষ নয়, চিনা রোবট! সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে চিনা দূতাবাসের একটি অনুষ্ঠানে রোবটদের এমন নাচের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
পিপল্স রিপাবলিক অফ চায়না প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে রিয়াধে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল চিনা দূতাবাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিয়াধের মেয়র, সৌদিতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি। সেই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে চিনে তৈরি একদল রোবটের বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা।
সৌদি আরবের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যবাহী নাচ আরদাহ। সাধারণত জাতীয় উৎসব, বিয়ে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই নাচ পরিবেশিত হয়। পুরুষদের দলবদ্ধভাবে সারিবদ্ধ হয়ে তালে তালে পা ফেলা, শরীরের ছন্দময় নড়াচড়া এবং হাতে অস্ত্র রাখার রীতি এই নাচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঐতিহাসিক ভাবে আরদাহর সঙ্গে তরবারির ব্যবহারও জড়িত।
তবে রিয়াধের চিনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে সেই ঐতিহ্যকে খানিকটা অন্যরকম ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সৌদির ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরানো হয়েছিল রোবটগুলিকে। প্রত্যেকের হাতে ছিল লাঠি। ড্রামের ছন্দ শুরু হতেই একসঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে নড়াচড়া করতে শুরু করে তারা। হাত-পায়ের সমন্বয়, একই সময়ে শরীর ঘোরানো এবং দলের মধ্যে নিখুঁত সামঞ্জস্য দেখে উপস্থিত অতিথিরাও মুগ্ধ হন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, রোবটগুলির গতিবিধি এতটাই সমন্বিত ছিল যে দূর থেকে দেখে তাদের মানুষ বলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তির সাহায্যে রোবটের এমন সমন্বিত নৃত্য পরিবেশনা চিনের রোবট প্রযুক্তির অগ্রগতির একটি প্রদর্শন হিসেবেও নজর কেড়েছে।
চিনা দূতাবাসও পরে সমাজমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, চিনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চিনে তৈরি রোবটগুলি বিশেষ পরিবেশনা করেছে। অতিথিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দূতাবাসের তরফে বলা হয়, রোবটগুলি ‘চমৎকার কাজ’ করেছে এবং উপস্থিত দর্শকেরা তা উপভোগ করেছেন।
এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, শুধুই প্রযুক্তি প্রদর্শন, নাকি এর মধ্যে কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে? সৌদি আরবের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চিনা প্রযুক্তির সঙ্গে একই মঞ্চে তুলে ধরার ঘটনাকে অনেকে দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীকী উপস্থাপন হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে প্রযুক্তির প্রদর্শন করার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা থাকতে পারে।
তবে চিনা দূতাবাস আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার কথা জানায়নি। ফলে আরদাহ নাচের মাধ্যমে কোনও বিশেষ বার্তা দেওয়ার বিষয়টি আপাতত অনুমান হিসেবেই থাকছে। ভিডিয়োটির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনীতে চিন নিজেদের তৈরি হিউম্যানয়েড রোবটের দক্ষতা তুলে ধরেছে। কখনও নাচ, কখনও দৌড়, আবার কখনও দলবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন কাজ করার মাধ্যমে রোবটের সক্ষমতা দেখিয়েছে বেজিং। রিয়াধের এই অনুষ্ঠানেও সেই প্রযুক্তি প্রদর্শনের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।
প্রযুক্তি আর ঐতিহ্যের এমন অদ্ভুত জুটি যে সমাজমাধ্যমের নজর কাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। সৌদির পরিচিত আরদাহ নাচের ছন্দে যখন লাঠি হাতে একসঙ্গে নাচল একদল চিনা রোবট, তখন প্রশ্ন উঠল একটাই—আগামী দিনে কি সাংস্কৃতিক মঞ্চেও মানুষের জায়গা নিতে শুরু করবে যন্ত্রমানব?