The NewsNest Desk: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের আবহের মধ্যেই সামনে এল পুজো কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক দাবি। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে প্রতিমার মুখের দিক পরিবর্তন কিংবা খুঁটিপুজোর নির্দিষ্ট স্থান সরানোর পর তাঁদের পরিবার ও পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের জীবনে একের পর এক অঘটন ঘটেছে। এ বছরও প্রতিমার মুখের দিক বদলানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও এমন ঘটনার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে, এমন দাবি করেননি জয়ন্ত নিজেই। তাঁর কথায়, বিষয়টি কাকতালীয়ও হতে পারে।
চোরবাগান পুজো কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে কলকাতার বাইরে, পুরীতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই ফোনে তিনি অতীতের কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিমার মুখের দিক পরিবর্তনের পর পুজোর সময়ই কমিটির তৎকালীন সভাপতির মৃত্যু হয়েছিল। ওই সভাপতি ছিলেন জয়ন্তর বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
জয়ন্তর বক্তব্য, চোরবাগান পুজোর নিজস্ব কিছু রীতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল প্রতিমার মুখের দিক অপরিবর্তিত রাখা। তাঁর দাবি, শিল্পী যত বড়ই হোন না কেন, তিনি কখনও প্রতিমার মুখের দিক বদলাতে দিতে চাননি। এ বছরও পুজোর প্রস্তুতির সময় পরিচিতদের বারবার সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জয়ন্ত বলেন, “আমাদের মাঠের একটা নিয়ম আছে। আমরা মায়ের মুখকে কোনও দিন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিই না।” তাঁর দাবি, এ বছর দক্ষিণের পরিবর্তে পশ্চিম দিকে মুখ করে প্রতিমা রাখা হয়েছিল। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি।
প্রতিমার মুখের দিক বদলানো এবং খুঁটিপুজোর স্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের কয়েকটি মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন জয়ন্ত। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় প্রতিমা কিছুটা সরানো হয়েছিল। সেই সময় বম্বে বিমানবন্দরে তাঁর পোষ্য কুকুরের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালে খুঁটিপুজোর স্থান কিছুটা সরানো হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি জানান, ওই বছর তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে খুঁটিপুজোর সময় পরিবর্তনের পর তাঁর আরও একটি পোষ্য কুকুর এবং পরে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।জয়ন্তর বক্তব্য, এই ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। প্রতিমার মুখের দিক পরিবর্তনের কারণেই যে এমন ঘটনা ঘটেছে, এমন দাবিও করেননি তিনি। বরং এ বছরের বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি কাকতালীয়ও হতে পারে।
মহাসপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুজোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথের কাছে ভিড়ের চাপ বেড়ে যায়। সরু গেটে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। হুড়োহুড়ির মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।
আরও পড়ুন: Chorbagan Stampede: ভিড়ের চাপে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শিউরে ওঠার মতো তথ্য