The NewsNest Desk: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচ নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে রাজ্য। রাজ্যের মূল প্রশ্ন, একাধিক এফআইআরের ক্ষেত্রে অভিষেককে এভাবে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা সামগ্রিক রক্ষাকবচ দেওয়া হবে কেন?
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দীপাবলির ছুটির পর আদালত খুললে মামলাটির শুনানি হতে পারে। এই আবেদনের মাধ্যমে কলকাতা হাই কোর্টের গত ২৫ অগস্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য সরকার। ওই নির্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়েকটি মামলায় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতারসহ কোনওরকম জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
রাজ্যের বক্তব্য, অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি গুরুতর। এমন পরিস্থিতিতে ফৌজদারি মামলায় তাঁর জন্য পৃথক আইনি প্রতিকার রয়েছে। তিনি চাইলে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট আইনি পথে না গিয়ে একাধিক মামলায় একসঙ্গে রক্ষাকবচ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।
এছাড়াও, রাজ্যের যুক্তি, প্রতিটি এফআইআর-এর অভিযোগ ও পরিস্থিতি আলাদা। ফলে একাধিক এফআইআরকে একত্রিত করে একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়। কোনও অভিযুক্তের ক্ষেত্রেই একাধিক মামলায় সামগ্রিক রক্ষাকবচ দেওয়ার নজির নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সরকার। এই যুক্তিতেই কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পরিবর্তন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
১৬টি এফআইআর নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই মামলাগুলি করা হচ্ছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানার কয়েকটি মামলায় হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়। আদালত অবশ্য কোনও এফআইআর বাতিল করেনি। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। পাশাপাশি অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২৫ অগস্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্ট জানায়, তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে পারবে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে রাজ্য আদালতের কাছে রক্ষাকবচ সংশোধন বা প্রত্যাহারের আবেদন জানাতে পারবে।
৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুরক্ষা, এবার শীর্ষ আদালতে লড়াই
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত চললেও আপাতত গ্রেফতার বা অন্য জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশের মেয়াদ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল রাজ্য।
এখন শীর্ষ আদালত এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইন মহলের। রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করে হাই কোর্টের নির্দেশে পরিবর্তন আনা হবে, নাকি অভিষেকের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে, তা নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির উপর।
মামলাটি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। একদিকে অভিষেকের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; অন্যদিকে রাজ্যের বক্তব্য, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি মামলার পৃথক আইনি নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।