The NewsNest Desk: উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল মৃত্যুমিছিলে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সামনে এল ময়নাতদন্তের ভয়াবহ তথ্য। প্রাথমিকভাবে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিড়ের প্রবল চাপে একাধিক মৃতের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। অন্তত ছ’জনের ক্ষেত্রে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার মতো গুরুতর আঘাতের কথা জানা গিয়েছে। অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি।
একাধিক অঙ্গে গুরুতর আঘাত
সপ্তমীর রাতে চোরবাগান মণ্ডপে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। ভিড়ের চাপে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া এবং শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে সাত জনের ক্ষেত্রে দমবন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের একাধিক অঙ্গে গুরুতর ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অন্তত ছ’জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের শরীরে হাত-পা ভাঙা, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় ভিড়ের চাপ কতটা ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। তবে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট এবং চিকিৎসকদের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কী ভাবে ঘটে চোরবাগানের বিপর্যয়?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। সরু প্রবেশ ও নির্গমনপথে একসঙ্গে বহু মানুষ জড়ো হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একদিকে বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর চেষ্টা, অন্যদিকে ভিতরে প্রবেশ করতে চাওয়া দর্শনার্থীদের ভিড়—সব মিলিয়ে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
অভিযোগ, গেটের কাছে ভিড় জমে যাওয়ায় অনেকেই আটকে পড়েন। সেই সময় হুড়োহুড়ি ও প্রবল চাপের জেরে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার দায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু ১৯টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।