The NewsNest Desk : সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি নিজেদের মতাদর্শ ও নীতির বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। ক্যাম্পাসে হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান চালিয়ে যাওয়া পড়ুয়াদের সমর্থনে শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি দেশের বিবেকবান নাগরিকদের পড়ুয়াদের দাবির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেতা।
ভিডিয়ো বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, বাংলার নির্বাচনে ‘কারসাজিপূর্ণ জয়’-এর পর বিজেপি এখন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে সহমত নন, এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, এই প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা, যাঁরা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিনেতা বলেন, দলটি নিজেদের পক্ষে নির্লজ্জ প্রচারকে সমর্থন করেই থেমে থাকছে না। দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় নিজেদের মতাদর্শে প্রভাবিত করতে, নয়তো ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে চাইছে। তবে এই চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসিরুদ্দিনের কথায়, এই তরুণ-তরুণীরাই ভবিষ্যতে নিজেদের, দেশ এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সত্য তুলে ধরবেন। তাই তাঁদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা না করে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন অভিনেতা।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান
এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়ারা গত ১২ অক্টোবর থেকে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার দফতরের বাইরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান চালাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে একাধিক হিংসার ঘটনার দায় নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।
নাসিরুদ্দিন শাহের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পরিবর্তে পড়ুয়াদের শো-কজ় নোটিস দেওয়া হয়েছে, নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁদের হস্টেল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিনেতা।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভয় দেখিয়ে বা তাঁদের চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে রাখা সম্ভব নয়। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি দেশের সমস্ত বিবেকবান নাগরিককে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।
কী ঘটেছিল এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে?
এই আন্দোলনের সূত্রপাত ক্যাম্পাসে পরপর হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানের সময় পড়ুয়াদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের সংঘর্ষ হয় বলে জানা গিয়েছে।
এর পর ৪ অক্টোবর বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকানোর পর কয়েক জন প্রতিষ্ঠানটির গেট জোর করে খোলার চেষ্টা করেন। পরপর এই ঘটনাগুলির জেরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত ১৬ অক্টোবর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এসআরএফটিআইয়ের চলচ্চিত্র, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগে নিয়মিত পঠনপাঠন ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসের হস্টেল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দুর্গাপুজোর ছুটি চলায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। কিন্তু আন্দোলনরত পড়ুয়ারা অবস্থান প্রত্যাহার করতে রাজি হননি।
প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
পড়ুয়াদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিংসার ঘটনাগুলির দায় নির্ধারণ করা জরুরি। সেই দাবিতেই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য দিকে, নাসিরুদ্দিন শাহের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর এই আন্দোলন নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের নজরে এসেছে।
তবে ক্যাম্পাসের হিংসার ঘটনা, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং পড়ুয়াদের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সামনে আসা প্রয়োজন। আপাতত আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড়। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নাসিরুদ্দিন শাহের বার্তা, ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্বাধীনভাবে ভাবার ও সত্য তুলে ধরার অধিকার রক্ষা করা জরুরি।